• ‘সবার জন্য শিক্ষা চাই দেশবিরোধী স্লোগান?’, যাদবপুরের দেওয়ালে চুনকাম নিয়ে প্রশ্ন শতরূপদের
    প্রতিদিন | ৩০ আগস্ট ২০২৬
  • ‘দেশদ্রোহীদের আখড়া’, ‘নেশা করার জায়গা’ – এমন সব বাছাই করা বিশেষণে বাক্যবাণ এতদিন নিক্ষেপ করা হতো। তার কারণও কম ছিল না। কিন্তু এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র শিক্ষার আদানপ্রদান, জ্ঞানলাভই হবে। এর চেয়ে বেশি কিছু নয়। বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইমেজ যেটুকু নষ্ট হয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করতে হবে। এই সংকল্প নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে নজর দিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। তৃণমূল আমলে যা পুরোপুরি অবহেলিত ছিল। তার ফাঁকে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা পড়ুয়াদের একাংশের ‘অসভ্যতামি’ বন্ধ করতে জরুরি পদক্ষেপ করেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পরই ক্যাম্পাসের দেওয়াল থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে দেশবিরোধী সমস্ত স্লোগান। আর তা নিয়ে সমালোচনা শুরু করেছেন বামপন্থীরা। শতরূপ ঘোষ, দেবাঞ্জন দে’রা মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পালটা রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলেছেন।

    রবিবার যাদবপুরের স্লোগান লেখা দেওয়াল চুনকাম করে তা মোছা হয়েছে। এনিয়ে সিপিএমের তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘যাদবপুরের দেওয়ালে ঠিক কোন স্লোগানকে দেশবিরোধী বলা হচ্ছে? ‘সবার জন্য শিক্ষা চাই, শিক্ষা শেষে কাজ চাই’ – এই ধরনের স্লোগানও কি দেশবিরোধী? মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন যে যাদবপুরের দেওয়ালে ‘কিষাণজি জিন্দাবাদ’ স্লোগান রয়েছে। একজন মাওবাদী নেতার সমর্থনে কেন স্লোগান থাকবে? কিন্তু মনে করিয়ে দিতে চাই, পশ্চিমবঙ্গে ‘কিষাণজি জিন্দাবাদ’ স্লোগান প্রথম তুলেছিলেন উনিই। কিষাণজি, জঙ্গলমহলের রাজনীতির সঙ্গে ওঁর কী যোগ, সেসব প্রমাণ রয়েছে। দরকারে প্রকাশ করব।”

    এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘দেওয়াল মুছে ইতিহাস মোছা যায় না!’ সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘ছাত্র ভোট করান। ক্যাম্পাসের ছেলেমেয়েরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বেছে নিক ক্যাম্পাসের প্রিয়জনদের।’ সম্প্রতি যাদবপুরে ছাত্র সংঘর্ষে এবিভিপির বিরুদ্ধে গায়ের জোরে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ক্ষমতা কায়েমের অভিযোগ তুলে একই বক্তব্য রেখেছিলেন দেবাঞ্জন। যদিও ছাত্রভোট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁর আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা, ‘‘সব জায়গায় এবিভিপি জিতবে, গেরুয়া আবির উড়বে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)