ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতের ম্যাচ নিয়ে ‘ঈর্ষা’ সুনীলের, ভারতীয় ফুটবলে ঐক্যের বার্তাও প্রাক্তন অধিনায়কের
আজকাল | ৩০ আগস্ট ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: আন্তর্জাতিক ফুটবল কেরিয়ারে ব্রাজিলের মতো বড় দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাননি। তাই আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারত-ব্রাজিল দ্বৈরথের দিকে তাকিয়ে ঈর্ষাই হচ্ছে সুনীল ছেত্রীর। ভারতীয় ফুটবলের প্রাক্তন অধিনায়ক অবশ্য বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের এই সুযোগকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর অনুষ্ঠানের ফাঁকে ছেত্রী বলেন, “দর্শক হিসেবে আমার ঈর্ষা হচ্ছে। পেশাদার ফুটবলে ২৪-২৬ বছর এবং জাতীয় দলে প্রায় ২০ বছর কাটিয়েছি। কিন্তু এমন সুযোগ কখনও পাইনি।”
আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে ভারত। তার তিন দিন পর উরুগুয়ের বিরুদ্ধেও খেলবে ভারতীয় দল। এই দুই ম্যাচকে তরুণ ফুটবলারদের জন্য বড় সুযোগ হিসেবেই দেখছেন ছেত্রী।
তিনি বলেন, “এটা ওদের সময়। দলে অনেক প্রতিভাবান তরুণ রয়েছে। প্রত্যেকেরই নিজের সুযোগ আসে। ২০ বছর আগে যেমন আমি সুযোগ পেয়েছিলাম, এবার ওদেরও সেই সুযোগ এসেছে।”
সম্প্রতি অনুশীলনে ফিরেছেন ছেত্রী। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার কোনও পরিকল্পনা নেই বলেই স্পষ্ট করেছেন তিনি। নিজের ফিটনেস নিয়েও রসিকতা করেছেন প্রাক্তন ভারতীয় স্ট্রাইকার। তাঁর কথায়, “আমি মাত্র ২০ মিনিট অনুশীলন করেছি। এখন আমার বয়স প্রায় ৪২। ঠিকমতো দৌড়তেই পারি না, বেশ সমস্যায় পড়ছি।”
বর্তমান ভারতীয় দলের নির্বাচন নিয়েও কোনও মন্তব্য করতে চাননি ছেত্রী। দলে কয়েকজনের সুযোগ পাওয়া বা না পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এর উত্তর কোচকেই দিতে হবে। আমি এখন শুধু একজন সমর্থক, সবার মতো আমিও খেলা দেখি।”
এদিকে ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও মুখ খুলেছেন প্রাক্তন অধিনায়ক। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের ১৩৮ নম্বরে নেমে যাওয়া এবং ঘরোয়া ফুটবলের অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও কোনও এক পক্ষকে দায়ী করতে রাজি নন তিনি।
ছেত্রীর মতে, ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির জন্য এআইএফএফ, ফুটবলার, কোচ এবং সংবাদমাধ্যম সব পক্ষকেই সমান দায়িত্ব নিতে হবে।
তিনি বলেন, “আমি যত বছর খেলেছি, ভারতীয় ফুটবলের গ্রাফ প্রায় সবসময়ই এমন ছিল। এখন হয়তো এমন একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, যখন অনেক কিছুই ঠিকঠাক চলছে না। জাতীয় দলের পারফরম্যান্স, লিগে যা হয়েছে সবকিছুরই প্রভাব রয়েছে। তবে আমাদের আশাবাদী থাকতে হবে।”
ভারতের ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের পতনের দায় খেলোয়াড়দেরও নিতে হবে বলে মনে করেন ছেত্রী। তাঁর কথায়, “আমি জাতীয় দলের অংশ ছিলাম। র্যাঙ্কিং কেন নেমেছে? কারণ আমরা যেভাবে খেলেছি, যে ম্যাচগুলো জেতা উচিত ছিল সেগুলো হেরেছি। তাই আমরা যেখানে রয়েছি, তার একটা কারণ সেটাই। খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে। আমি যখন দলে ছিলাম, তখনও নিয়েছিলাম।”
তবে শুধু খেলোয়াড়দের নয়, ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককেই দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ছেত্রী বলেন, “দেশকে যদি ভাল জায়গায় নিয়ে যেতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। একে অপরকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, এই খেলোয়াড় খারাপ, কোচ খারাপ, এআইএফএফ খারাপ এভাবে চলতে পারে না।”
তাঁর মতে, দোষারোপের রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ার বদলে একসঙ্গে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। “আমরা একে অপরকে দোষ দিতে থাকতেই পারি। কিন্তু জানি, তাতে কোথায় পৌঁছব। তার বদলে সবাই একসঙ্গে এসে নিজেদের কাজটা করতে হবে। এখানে সংবাদমাধ্যমও গুরুত্বপূর্ণ,” বলেন তিনি।
ছেত্রী আরও বলেন, কঠিন প্রশ্ন তোলা অবশ্যই জরুরি। তবে একইসঙ্গে আশাবাদী থাকাও প্রয়োজন। “আমাদের সঠিক প্রশ্ন করতে হবে। অনেক কিছুরই উন্নতি করতে হবে। কিন্তু একে অপরকে দোষারোপ করে কোনও লাভ নেই। আলোচনা করতে হবে, কথা বলতে হবে, পথ খুঁজে বের করতে হবে এবং সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”
ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত আশাবাদীই থাকতে চান ছেত্রী। তাঁর বিশ্বাস, সময় লাগলেও পরিস্থিতি আবার ঠিক হবে।