নেপালে হড়পা বানে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মানুষদের উদ্ধারকাজ চলছে গত চার দিন ধরে। ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বেঁচে ফিরে এসে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা শোনাচ্ছেন পর্যটকরা। সেরকমই তামিলনাড়ুর একটি দলকে বাঁচিয়ে তুলতে অনন্য ভূমিকা নিল ভারতীয় পোশাক— একটি শাড়ি। যার জন্য প্রাণে বেঁচে ফিরলেন ২১ জন পর্যটক। শুক্রবার রাতে সকলে কাঠমান্ডু হয়ে নিরাপদে চেন্নাইয়ে ফিরেছেন।
তামিলনাড়ুর একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তিনটি বাসে মোট ৫৭ জন পুণ্যার্থী কৈলাস-মানসরোবর যাত্রায় গিয়েছিলেন। নেপালের রসুয়া এলাকায় কাদায় আটকে গিয়ে তাঁদের বাসটি কিছুক্ষণের জন্য মেরামতের জন্য দাঁড়ায়। ওই বাসের যাত্রী বিজয়া দেবী একটি সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘এই কয়েক মিনিটের বিলম্বই তাঁদের প্রাণ বাঁচিয়ে দেয়। নাবু কবিরদাস বলেন, ‘হঠাৎ আমরা বিকট শব্দ শুনলাম, যেন কোনও বোমা ফাটল। পাহাড় থেকে উপরের বাসগুলোর দিকে বড় বড় পাথর গড়িয়ে পড়তে লাগল। আর তারপরই বাঁধ ভাঙার মতো প্রবল বেগে বন্যার জল নেমে এল।’
ওই বাসের ২১ জন পর্যটকের বেশির ভাগের বয়সই ৫০-এর উপরে। বাস থেকে নেমে একতলার সমান খাড়া পাহাড় বেয়ে উঠে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন সকলেই। তবে ওঠার সময়ে তাঁরা বার বার গড়িয়ে নিচে পড়ে যাচ্ছিলেন। ৪ ফুট উপরে উঠলে কাদার টানে ৫ ফুট নিচে নেমে যাচ্ছিলেন সবাই। ততক্ষণে বিশালাকৃতি জল ও কাদার স্রোত নীচে গোটা এলাকাটিকে গ্রাস করে ফেলেছে।
এর মধ্যেই পুঙ্গোডি নামের এক পর্যটক প্রথম কোনওমতে উপরে পৌঁছন। তিনি নিজের সোয়েটার পরে গায়ের শাড়িটি খুলে নীচের দিকে ঝুলিয়ে দেন। নীচের অংশে আটকে থাকা বাকিরা সেই শাড়ি এবং একটি তার শক্ত করে ধরে উপরে উঠতে শুরু করেন। ভুবনেশ্বরী নাম এক যাত্রী ওই সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘এক বৃদ্ধা কোনওভাবেই উঠতে পারছিলেন না। তখন সবাই মিলে শাড়িটি তাঁর কোমর পেঁচিয়ে বেঁধে দেন। উপর থেকে শাড়ি টেনে ধরে তাঁকে সোজা তুলে নেওয়া হয়।’ এই ভাবে প্রাণ বাঁচে ২১ জন পর্যটকের।
সেই রাতে স্থানীয় নেপাল আর্মড পুলিশ ফোর্সের একটি ক্যাম্পে থাকেন সকলে। সেখানে বিস্কুট ও জল খেয়ে রাত কাটাতে হয়। পরদিন কাঁটাতার ও খাড়া পাহাড়ি পথ ধরে দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা পায়ে হেঁটে একটি হেলিপ্যাডে পৌঁছন তাঁরা। একটু ভুল হলেই ৫০ ফুট নীচের খাদে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে তাঁদের উদ্ধার করে কাঠমান্ডু নিয়ে আসা হয় এবং সেখান থেকে তাঁরা দিল্লিতে পৌঁছন।