এই সময়, হিলি: বাংলাদেশে দ্রব্যসামগ্রী পাঠাতে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এমন কারণ দেখিয়ে রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশে মাল রপ্তানি ও আমদানি বন্ধ করল হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। ইতিমধ্যে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের চিঠি দিয়ে তাঁদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে তারা। একটা সময়ে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দু'শোর বেশি লরি বাংলাদেশে মাল রপ্তানি করত।
বছর দু'য়েক আগে বাংলাদেশে অস্থির পরিবেশ তৈরি হওয়ার পরে সেই সংখ্যা কমে যায়। আস্তে আস্তে আবার ব্যবসা শুরু হয়। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে কোনও সামগ্রী রপ্তানি করতে হলে রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট পোর্টালে স্লট বুকিং করতে হয়। সূত্রের খবর, স্লট বুকিংয়ের মাধ্যমে যে সব লরি বাংলাদেশে দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে যায়, সেগুলিতে তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ থাকত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রত্যেক স্থলবন্দরে এ ভাবেই মাল রপ্তানি করা হয়। কারণ, নিয়ম মানলে খরচের টাকা উঠবে না। বর্তমানে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে গম, কাঁচা লঙ্কা, পাথর ও নানা সামগ্রী। বাংলাদেশ থেকে বিস্কুট এবং প্যাকেট জাতীয় খাবারের সামগ্রী ভারতে আসছে।
এ ভাবেই সব কিছু চলছিল। সম্প্রতি জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনও ওভারলোডিং লরি আর বাংলাদেশে পাঠানো যাবে না। যা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বিবাদ শুরু হয়। সমস্যা না-মেটায় ব্যবসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। তবে এ নিয়ে কোনও ব্যসায়ী বা হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা সরাসরি মন্তব্য করেননি।
দু'দেশের ব্যবসা বন্ধে লরি পারাপার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বহু লরি। হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিকাশ মণ্ডল বলেন, 'ব্যবসায় আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। সেই কারণে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'