এই সময়, কোলাঘাট: ট্রেনের ধাক্কায় ভোগপুর কেনারাম হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী সোমা জানার মৃত্যুর পরে আতঙ্কে কাঁটা হয়ে আছেন পড়ুয়া ও তাদের অভিভাবকরা। গত মঙ্গলবার ওই দুর্ঘটনার পর থেকে পড়ুয়াদের একাংশ স্কুলমুখো হয়নি। অনেক অভিভাবক ছেলেমেয়েদের স্কুলে পৌঁছে দিচ্ছেন। স্কুল ছুটির পরে আবার তাদের সঙ্গে নিয়েই ফিরছেন। বারবার ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যুর ঘটনার পরে রেলের উপরে আর ভরসা রাখতে পারছেন না ভোগপুর, দেড়িয়াচক এলাকার অভিভাবকরা। পথ নিরাপত্তা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করতে আজ, সোমবার একটি সেমিনারের আয়োজন করেছেন ভোগপুর কেনারাম মেমোরিয়াল হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষায় আগুয়ান জেলা বলেই পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুর। জেলায় কোলাঘাট ব্লকও শিক্ষায় যথেষ্ট এগিয়ে। কোলাঘাট ব্লকের ভোগপুর, দেড়িয়াচক, সাগরবাড় এলাকার একটা বড় অংশের পড়ুয়াদের পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রেললাইন। ভোগপুর স্টেশনের একবারে গা ঘেঁষে রয়েছে কেনারাম মেমোরিয়াল হাইস্কুল। রেললাইন থেকে স্কুলগেটের দূরত্ব সাকুল্যে ৫০ ফুট। স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২৩৭৬। তাদের মধ্যে প্রায় এক হাজার ছাত্রছাত্রী প্রতিদিন ট্রেনে স্কুলে আসে। বাকিদের রেললাইনের গা ঘেঁষে অথবা রেললাইন পেরিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। দীর্ঘ আন্দোলনের পরেও ভোগপুরে লেভেল ক্রসিং কিংবা আন্ডারপাস তৈরি করেনি রেল।
গত মঙ্গলবারের দুর্ঘটনার পরে পড়ুয়াদের পঠনপাঠন নিয়ে সঙ্কটে পড়েছেন অভিভাবকরা। সন্ধ্যা মাইতি নামে এক অভিভাবকের কথায়, 'মেয়ে ভোগপুর হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। সোমা জানার মৃত্যুর পরে আমি রোজ মেয়েকে স্কুলে দিতে যাচ্ছি ও নিয়ে আসছি। রেলের উপরে আর ভরসা রাখতে পারছি না।'
ভোগপুরে রেললাইনের কিছুটা দূরে রয়েছে একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ভোগপুর প্রাথমিক স্কুল। সোমা জানার মৃত্যুর পর ওই স্কুলের অভিভাবকরাও আতঙ্কিত। ভোগপুর বিদ্যাসাগর প্রাইমারি এডুকেশন সেন্টারের সহকারী শিক্ষক চন্দন সামন্ত বলছেন, 'লেভেল ক্রসিং না-থাকায় ছাত্রছাত্রীদের হাত ধরে রেললাইন পার করে দিতে হয়। অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে অভিভাবকরা রেললাইন পেরিয়ে ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে নিয়ে আসেন। ২০২৬-এ দাঁড়িয়েও আমাদের এই দৃশ্য দেখতে হচ্ছে। এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু নেই।'
ভোগপুর হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী প্রীতি আদকের কথায়, 'যে পথে সোমাদির দুর্ঘটনা ঘটেছে ওই পথ দিয়েই আমি স্কুলে যাই। যাতায়াতের পথে ট্রেন এসে পড়লে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে ইষ্টনাম জপ করি। এভাবে কি পড়াশোনা করা যায়?' সোমা জানার মৃত্যুর পরে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পথ নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন করতে উদ্যোগী হয়েছেন ভোগপুর হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুবীর মাইতি বলেন, 'সোমা জানার মৃত্যুর পরে আন্ডারপাস নির্মাণের দাবিতে রেলের সব দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি। দুর্ঘটনার পরে অভিভাবকরাও আতঙ্কিত। পাঁশকুড়া জিআরপি থানার সহযোগিতায় আজ স্কুলে পথ নিরাপত্তা বিষয়ে একটি সেমিনার হবে। সেমিনারের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের আমরা রেললাইন পারাপার নিয়ে সচেতন করব।'