• ট্রেনে-স্টেশনে ময়লায় জরিমানা বেড়ে ১০০০, দিতে অস্বীকার করলে ২০০০ টাকা
    এই সময় | ৩১ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: ট্রেনে বসে খাবারের খালি প্যাকেটটা অবহেলায় সিটের নীচে ফেলে দিলেন? স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে চা খাওয়ার প্লাস্টিকের কাপ বা ঠান্ডা পানীয়র বোতলটা যেমনতেমন ভাবে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার বদ অভ্যেস আছে? তা হলে সাবধান! এই অভ্যাস এ বার বদলে ফেলার সময় এসেছে। এমন অপরাধ করলে এ বার থেকে গুনতে হবে ১০০০ টাকা জরিমানা। প্রাথমিক ভাবে জরিমানা দিতে অস্বীকার করলে আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে। সে ক্ষেত্রে জরিমানার অঙ্ক বেড়ে দ্বিগুণ হওয়ার, অর্থাৎ ২০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

    রেল চত্বরে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে শাস্তির মাত্রা দ্বিগুণ করল ভারতীয় রেল। ২৪ অগস্ট সরকারি গেজেটে ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ় (পেনাল্টিজ় ফর অ্যাক্টিভিটিজ় অ্যাফেক্টিং ক্লিনলিনেস অ্যাট রেলওয়ে প্রেমিসেস) সংশোধনী আইন ২০২৬–এর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রেল মন্ত্রক। নতুন নিয়মে ২০১২–তে জারি করা সংশ্লিষ্ট বিধির সংশোধন করে সর্বোচ্চ জরিমানার অঙ্ক ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করা হয়েছে। গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকেই এই সংশোধিত নিয়ম কার্যকর হয়েছে।

    শুধু আবর্জনা ফেলার ক্ষেত্রেই নয়, রেল চত্বরে একাধিক কাজের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। নির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকলে স্টেশন, ট্রেন বা রেলের এলাকাভুক্ত অন্য কোনও জায়গায় আবর্জনা ফেলা বা ফেলে রাখা, রান্না করা, স্নান করা, থুতু ফেলা, প্রস্রাব-পায়খানা করা, পশু-পাখিকে খাবার দেওয়া, গাড়ি ধোয়া, বাসন বা জামাকাপড় কাচা এবং বিভিন্ন জিনিসপত্র মজুত করার মতো কাজ শাস্তিযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, ট্রেনের আসনের নীচে খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিকের কাপ বা বোতল ফেলে রাখাও জরিমানার আওতায় আসতে পারে।

    রেল সম্পত্তি নোংরা বা বিকৃত করার বিষয়টিও নতুন নিয়মে গুরুত্ব পেয়েছে। অনুমতি ছাড়া ট্রেনের কামরা বা রেলের অন্য কোনও সম্পত্তিতে পোস্টার লাগানো, লেখা বা ছবি আঁকা নিষিদ্ধ। এমনকী, কোনও ভাবে রেল সম্পত্তির ক্ষতি বা বিকৃতি ঘটালেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

    পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দায়িত্ব শুধু যাত্রীদের নয়। রেল চত্বরে অনুমোদিত হকার ও বিক্রেতাদেরও আবর্জনা সংগ্রহের জন্য ডাস্টবিন বা উপযুক্ত পাত্র রাখতে হবে। সংগৃহীত বর্জ্যও নির্দিষ্ট নিয়মে সরিয়ে ফেলতে হবে। অর্থাৎ খাবার বা অন্য পরিষেবা দেওয়া বিক্রেতাদের উপরেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দিষ্ট দায়িত্ব থাকছে।

    স্টেশন মাস্টার বা স্টেশন ম্যানেজার, কমার্শিয়াল বিভাগের টিকিট পরীক্ষক, অপারেটিং বিভাগের সমমর্যাদার আধিকারিক এবং রেল প্রশাসনের অনুমোদিত অন্য আধিকারিকেরা নিয়ম ভাঙার ঘটনা দেখলে জরিমানা আদায় করতে পারবেন।

    নির্ধারিত ১০০০ টাকা জরিমানা দিতে অস্বীকার করলে অভিযুক্তকে সংশ্লিষ্ট এলাকার উপযুক্ত আদালতে পেশ করা যেতে পারে। আদালত সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। ফলে রেল চত্বরে ‘একটু ময়লা’ বলে বিষয়টি হালকা ভাবে নেওয়ার সুযোগ আর থাকছে না।

  • Link to this news (এই সময়)