অর্পিতা হাজরা
নম্বর ট্র্যাক করে যাতে কেউ খুঁজে না-পায়, তাই বাড়িতে মোবাইল রেখে বেরিয়ে গিয়েছিল নাবালিকা। অথচ সেই ফেলে যাওয়া ফোনের সূত্র ধরেই তাকে উদ্ধার করল পুলিশ!
সকাল ১১টা থেকে খোঁজ মিলছিল না মেয়ের। শনিবার দিনভর খোঁজাখুঁজির পরে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল পরিবার। অবশেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিঙ্ক পেয়ে অসম থেকে উদ্ধার করা হলো নদিয়ার হরিণঘাটার বাসিন্দা ১৩ বছরের এক কিশোরীকে। দুই রাজ্যের পুলিশের তৎপরতায় নাবালিকার জীবন বাঁচল।
রাজ্য পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নাবালিকার বাবা–মা মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে থানায় আসেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। এর পরেই হরিণঘাটা পুলিশ তদন্তে নামে। পরিবারের তরফে জানা যায়, নাবালিকা তার মোবাইল বাড়িতেই ফেলে গিয়েছিল। সেই ফোন থেকে নাবালিকার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও মেসেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। মেলে লিঙ্কও। পুলিশ জানতে পারে, অসমের বরপেটা এলাকার ১৬ বছরের এক নাবালকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই তাদের আলাপ হয়। ওই নাবালক তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে অসমে ডেকে পাঠায়। এই বিষয়ে জানতে পেরেই পুলিশ অনুমান করে ওই নাবালিকা বাড়িতে কিছু না-জানিয়ে অসম রওনা দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে হরিণঘাটা থানার পুলিশ অসম পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাদের সহযোগিতা চায়।
নাবালিকাকে খুঁজতে অসম পুলিশ বরপেটায় ওই নাবালকের বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সবটা স্পষ্ট হয়ে যায়। নাবালক স্বীকার করে, তার কথাতেই ওই নাবালিকা অসমেই আসছে। পুলিশ যাতে নাবালিকাকে ট্র্যাক করতে না-পারে, তাই তাকে বাড়িতে মোবাইল রেখে আসতে বলেছিল সে। এ বিষয়ে জানার পরেই বঙ্গাইগাঁও স্টেশনে সাদা পোশাকে মহিলা পুলিশের টিম যায়। ট্রেন ঢুকতেই অসম পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। আগেই নাবালিকার ছবি সংগ্রহ করেছিল অসম পুলিশ। সেই ছবি দেখেই ট্রেনের ভিতরে ও বাইরে তল্লাশি চলতে থাকে। সেখান থেকে নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়।
হরিণঘাটা পুলিশের একটি টিম অসমে রওনা দিয়েছে। রবিবারই নাবালিকাকে নিয়ে ফেরার কথা তাদের। তারপরে নাবালিকাকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।