যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল চুনকামের পর রাতটুকুও পেরল না। তার আগেই ক্যাম্পাসের মুছে ফেলা দেওয়ালে আবারও লেখা হল স্লোগান। কার্ল মাক্সের উক্তির চার লাইন লিখেছে কেউ বা কারা। তাতেই বোঝা যাচ্ছে, এটি বামপন্থী ছাত্রছাত্রীদের কাজ। তবে কে বা কারা এভাবে রাতের অন্ধকারে দেওয়াল লিখল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এসএফআই জানিয়েছে, রাতে নয়, তারা দিনের আলোয় ফের দেওয়াল লিখন করবে। অন্যদিকে, গেরুয়াপন্থী ছাত্র সংগঠন এবিভিপির দাবি, নকশালপন্থীদের কাজ এটি। এ বিষয়ে তারা নির্দিষ্ট জায়গায় অভিযোগ জানাবে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল হোয়াইটওয়াশ করা হলেও স্লোগান বিতর্ক এখানেই থেমে যাচ্ছে না। যদিও রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘‘কার্ল মার্ক্সের নীতি নিষিদ্ধ হয়নি, তাঁর উক্তি কেউ লিখতেই পারে।”
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির পর পদক্ষেপ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে থাকা বিতর্কিত দেওয়াল লিখন, গ্রাফিতি মোছার কাজ শুরু হয়েছিল শনিবার রাতে। রবিবার যেখানে যত দেওয়াল লিখন ছিল, তা চুনকাম করে দেওয়া হয়। এবিভিপি জানিয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই দেওয়াল লিখন মুছে দেয়। এনিয়ে সিপিএম ও এসএফআই পালটা প্রশ্ন তুলেছিল। তরুণ সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষের প্রশ্ন, ‘‘ঠিক কোনটা দেশবিরোধী স্লোগান ছিল? ‘সবার জন্য শিক্ষা চাই, শিক্ষা শেষে কাজ চাই’ – এটা কি দেশবিরোধী কথা?” এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘দেওয়াল মুছে ইতিহাস মোছা যায় না!’ সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল, ‘ছাত্র ভোট করান। ক্যাম্পাসের ছেলেমেয়েরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বেছে নিক ক্যাম্পাসের প্রিয়জনদের।’ যদিও মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, ‘কিষেণজি জিন্দাবাদ’, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’-এর মতো স্লোগান দেশবিরোধিতার শামিল। কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব কাম্য নয়। তাই তা মুছে ফেলা হয়েছে।
কিন্তু দেওয়াল মোছার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ফের স্লোগান ফিরল। এবার কার্ল মাক্সের চারলাইন উক্তি লেখা হয়েছে যার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, ‘আমাদের করুণা নেই/ আমরা তোমাদের কাছ থেকেও কোনো করুণা চাই না। যখন আমাদের পালা আসবে, তখনকার সন্ত্রাসের জন্য কোনও অজুহাত খুঁজব না।’ একথা লেখা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত প্রেক্ষাগৃহ বা ওপেন এয়ার থিয়েটারের দেওয়ালে। এই দেওয়ালেই রবিবার চুনকাম করে দেওয়া হয়েছিল। তার উপর রাতের আঁধারে ফুটে উঠেছে এই লেখা। এবিভিপির দাবি, এটা অতিবাম অর্থাৎ নকশালপন্থীদের কাজ। এসএফআইয়ের তরফে এখনও এনিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে সোমবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন দেওয়াল লিখন নিয়ে নতুন বিতর্ক মাথাচাড়া দিতে পারে বলে আশঙ্কা।