সোমবার সকাল ৯টা ১৪ মিনিট নাগাদ শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরের একটি খাবারের দোকান থেকে অনর্গল ধোঁয়া বেরতে দেখা যায়। ওই ধোঁয়া নিমেষে প্রায় গোটা স্টেশন চত্বরকে গ্রাস করে। হইচই শুরু করে দেন যাত্রীরা। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁরা। খবর দেওয়া হয় দমকলে। খবর পাওয়ামাত্রই দমকলের তিনটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় আগুন নেভানোর কাজ। কাচ ভেঙে ধোঁয়া বের করার চেষ্টা করেন দমকল কর্মীরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। রেল আধিকারিকরাও রয়েছেন সেখানে।
দমকল আধিকারিকদের দাবি, স্টেশন সংলগ্ন এলাকার ওই দোকানটির অগ্নি নির্বাপণ থেকে পর্যাপ্ত ছিল কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। যথাযথ জল পরিষেবা পাওয়া যায়নি বলেও দাবি আধিকারিকদের। দমকলের নিজস্ব জল দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ চলছে। আপাতত আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যাচ্ছে না। তবে এখনও ধোঁয়ায় ঢেকে রয়েছে গোটা স্টেশন চত্বর। আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে তাই চলছে কুলিং প্রসেস। কীভাবে ওই দোকানে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেই দমকল সূত্রে খবর।
বলে রাখা ভালো, সম্প্রতি তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ৯ জন আবাসিক। তার রেশ কাটতে না কাটতে নিউ মার্কেটের হোটেল আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় ৯ জন। এই দুই ঘটনার পরপরই শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরের খাবারের দোকান যেন জতুগৃহের চেহারা নিল। এদিনের ঘটনা অবশ্য কারও প্রাণ কাড়েনি। তবে সপ্তাহের প্রথম কর্মব্যস্ত দিনে শিয়ালদহের মতো ব্যস্ত স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যেকোনও মুহূর্তে বড়সড় বিপদ ঘটতে পারত। সেক্ষেত্রে কেন অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার দিকে যথোপযুক্ত গুরুত্ব দেওয়া হল না, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।