নেপালে বিপর্যয়। লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। নেপাল-তিব্বত সীমানায় প্রাকৃতিক বিপর্যের ৫ দিন পার! সোমবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া খবরে, মৃতের সংখ্যা ৯০০ পেরিয়ে গিয়েছে। নিখোঁজ ৫ হাজারের বেশি মানুষ। শনাক্ত করা যাচ্ছে না অধিকাংশ মৃতদেহ। DNA নমুনা সংগ্রহ করে দেহ শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। কাদার স্তূপ সরিয়ে প্রাণের খোঁজ চলছে। নতুন করে বন্যা সতর্কতা জারি হয়েছে নেপালে। কাঠমান্ডু থেকে জানানো হয়েছে, ভোটকোশী নদীতে জল বাড়ছে। আবহাওয়ার যা অবস্থা, তাতে নতুন করে হড়পা বানের আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে। কাঠমান্ডু থেকে বন্যা বিপর্যস্ত এলাকাগুলিতে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চলছে ক্রমাগত।
গত ২৬ অগস্ট ভয়াবহ হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে নেপাল-তিব্বত সীমানা এলাকা। সারি সারি মৃতদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এখনও। কাদার পাঁকের মধ্যে থেকেই মিলছে দেহের খোঁজ! একাধিক বিদ্যুৎপ্রকল্পের টানেলে শ্রমিকদের আটকে থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হাইড্রোপ্ল্যান্ট প্রজেক্টে কর্মরত বহু শ্রমিকের এখনও খোঁজ নেই। নেপালি আর্মি ট্রুপ ও ইঞ্জিনিয়াররা ড্রিল মেশিন দিয়ে সুড়ঙ্গের মুখ থেকে পাথর সরানোর কাজ করছেন।
নেপালের রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় উদ্ধারকেন্দ্র ও হাসপাতালগুলিতে দিশাহারা লোকজনের ভিড়। আপনজনদের খোঁজে শূন্য দৃষ্টিতে এ দিক ও দিক ছুটছেন। যাঁরা প্রিয়জনের দেহের খোঁজ পেয়েছেন, কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। মর্গগুলিতেও একই হাহাকারের ছবি। NDTV-র খবর অনুযায়ী, এত দেহ, যথাযথ ফ্রিজ়িং ফেসিলিটি দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দেহ শনাক্তের আগেই বহু দেহ কবর দিতে হচ্ছে! যদিও দেহ কবর দেওয়ার আগে DNA সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। যাতে পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নিয়ম মেনে শ্রাদ্ধশান্তির কাজ করতে পারেন।