• আবারও রাজধানীতে নির্ভয়াকাণ্ড, চলন্ত বাসে কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার চালক ও কন্ডাক্টর
    এই সময় | ৩১ আগস্ট ২০২৬
  • Big Breaking: ১৪ বছর পরে আবারও নির্ভয়াকাণ্ডের স্মৃতি উস্কে দিল গ্রেটার নয়ডায় কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনা। আবারও চলন্ত পর্দা টানা স্লিপার বাসে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ। গ্রেটার নয়ডা থেকে দিল্লির কাশ্মীরি গেটগামী একটি স্লিপার বাসে ১৬ বছরের এক নাবালিকা ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বাসের চালক ও কন্ডাক্টরের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর দু’জনকেই গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। যে বাসে ঘটনাটি ঘটেছে, তা-ও তদন্তের স্বার্থে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনা ঘটেছে দিল্লির কাশ্মীরি গেট থানা এলাকায়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের মইনপুরী জেলার বাসিন্দা ওই কিশোরী একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। পরিবারের সঙ্গে মনোমালিন্যের পর সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিল। গ্রেটার নয়ডার সেক্টর ৬৩ এলাকায় থাকা এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু প্রবল বৃষ্টি ও অন্ধকারের মধ্যে পথ ভুল করে সে গ্রেটার নয়ডার পরিচিত এলাকার পরিবর্তে পরী চকে নেমে যায়। সেখানে রাস্তায় একা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার একটি খালি স্লিপার বাস দেখতে পায় ওই কিশোরী।

    পুলিশকে দেওয়া বয়ানে কিশোরী জানিয়েছে, সে বাসকে থামার জন্য ইশারা করে। চালক কুলদীপ এবং কন্ডাক্টর সন্দীপ তাকে জানায়, তারা নয়ডার সেক্টর ৬৩-এর দিকে যাচ্ছেন, তাকে নামিয়ে দেবে। সেই কথা বিশ্বাস করে কিশোরী বাসে উঠে পড়ে।

    অভিযোগ, বাসটি চলতে শুরু করার কিছুক্ষণ পরেই কন্ডাক্টর তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এর পরে চালক ও কন্ডাক্টর দু’জনে মিলে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। কিশোরীর দাবি, সে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। চলন্ত বাসের মধ্যেই তার উপরে দফায় দফায় যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ।

    তদন্তে জানা গিয়েছে, বাসটি খারাপ হয়ে যাওয়ায় গ্রেটার নয়ডার সুরজপুর এলাকার একটি ওয়ার্কশপে মেরামতির জন্য পাঠানো হয়েছিল। মেরামতির পরে চালক ও কন্ডাক্টর খালি বাসটি দিল্লির তিমারপুরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময়ই পরী চক এলাকায় তাদের সঙ্গে কিশোরীর দেখা হয়।

    অভিযোগ অনুযায়ী, পরী চক থেকে কাশ্মীরি গেট পর্যন্ত প্রায় ৪৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বাসটি। এই ৪৭ কিমি রাস্তা আসার পথেই কিশোরীর উপর অত্যাচার চালায় অভিযুক্তরা। পরে কাশ্মীরি গেট ISBT-র কাছে রিং রোড এলাকায় কিশোরীকে নামিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা চলে যায়। এর পরে সে নিকটবর্তী কাশ্মীরি গেট থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে গোটা ঘটনার কথা জানায়।

    তদন্তে উঠে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ওই স্লিপার বাসে বার্থগুলির সামনে পর্দা ছিল। ফলে বাইরে থেকে বাসের ভিতরে কী ঘটছে, তা সহজে দেখা সম্ভব ছিল না। পুলিশের মতে, এই বিষয়টিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে বাসটি যে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে দিল্লিতে পৌঁছেছিল, সেই রুটের সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরে তদন্তে নেমে পুলিশ কুলদীপ ও সন্দীপকে উত্তর দিল্লির তিমারপুর এলাকার একটি পার্কিং লট থেকে গ্রেপ্তার করে। তাদের জেরা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজেয়াপ্ত বাসটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যাতে অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা যায়।

    এই ঘটনা ফের দিল্লিতে গণপরিবহণে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে পর্দাটানা স্লিপার বাসে মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে খালি বা ব্যক্তিগত স্লিপার বাসে যাত্রী ওঠানোর ক্ষেত্রে চালক-কন্ডাক্টরের পরিচয় যাচাই, বাসের নজরদারি, সিসিটিভি, জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট রুটে নজরদারি কতটা কার্যকর—তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    এই ঘটনা ২০১২ সালের দিল্লির বহুল আলোচিত নির্ভয়া-কাণ্ডের স্মৃতি উস্কে দিয়েছে। ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লির চলন্ত বাসে এক তরুণীর উপর ভয়াবহ গণধর্ষণের ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছিল। সেই ঘটনার পর গণপরিবহণে মহিলাদের নিরাপত্তা এবং যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা হয়।

  • Link to this news (এই সময়)