জম্মু-কাশ্মীরে তরুণদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ এবং তাঁদের জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগের জন্য প্রচলিত সোশ্যাল মিডিয়ার বদলে এ বার অন্য উপায়। পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট, গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং বিশেষ ধরনের এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ও তাদের হ্যান্ডলাররা— এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নিরাপত্তা আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে PTI জানিয়েছে, নজরদারি এড়াতেই যোগাযোগের এই বিকল্প মাধ্যমগুলির ব্যবহার করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, WhatsApp ও Facebook Messenger-এর মতো প্রচলিত প্ল্যাটফর্মে নজরদারি বাড়ায় জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলি এখন এমন জায়গা বেছে নিচ্ছে, যেখানে তাদের যোগাযোগ সহজে চোখে পড়ে না। কিছু পর্ন ও ডেটিং ওয়েবসাইটে থাকা রিয়েল-টাইম চ্যাট ফিচার ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ এবং বার্তা আদানপ্রদান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
আধিকারিকদের দাবি, কিছু পর্নোগ্রাফি ও ডেটিং প্ল্যাটফর্মে কাছাকাছি এলাকার ব্যবহারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য লাইভ চ্যাটের সুবিধা থাকে। জঙ্গি হ্যান্ডলাররা সেই ফিচারকেই নিজেদের কাজে ব্যবহার করছে। এই মাধ্যমে তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ করা, বার্তা আদানপ্রদান এবং পরবর্তী কার্যকলাপের বিষয়ে নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। ভারতে নিষিদ্ধ কয়েকটি পর্নোগ্রাফি প্ল্যাটফর্মও VPN ব্যবহার করে কেউ কেউ অ্যাক্সেস করছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রচলিত নজরদারি ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে যোগাযোগ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
শুধু পর্ন সাইট নয়, নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরে এসেছে Tor-বেসড কয়েকটি মেসেজিং অ্যাপও। Coatex ও Conion-এর মতো প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীর পরিচয় ও অবস্থান গোপন রাখা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় সেগুলি যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আধিকারিকদের দাবি। Conion-এর APK ভারতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু নিষিদ্ধ অ্যাপ VPN ব্যবহার করে বেআইনি ভাবে ডাউনলোড করার ঘটনাও নিরাপত্তা সংস্থার নজরে এসেছে।
নিরাপত্তা আধিকারিকরা আরও একটি privacy-focused মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার নিয়েও সতর্ক হয়েছেন। ফ্রান্সভিত্তিক ওই অ্যাপে ফোন নম্বর বা SIM কার্ড ছাড়াই end-to-end encrypted মেসেজ পাঠানো সম্ভব বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর পরিচয় শনাক্ত করা তদন্তকারীদের কাছে আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগাযোগের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছিল, PUBG-এর মতো অনলাইন গেমে থাকা চ্যাট ফিচার ব্যবহার করে পাকিস্তানভিত্তিক হ্যান্ডলাররা তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নির্দেশ পাঠানোর চেষ্টা করেছে। এখন সেই কৌশল আরও বিস্তৃত হয়ে পর্ন সাইট ও এনক্রিপ্টেড অ্যাপেও পৌঁছেছে বলে আধিকারিকদের দাবি।
বিদেশি সংস্থার ভার্চুয়াল SIM ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির অভিযানের মধ্যেই সামনে এসেছে এক নতুন কৌশল। ভার্চুয়াল SIM পরিষেবার মাধ্যমে ফোনে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করা যায়, ফলে যোগাযোগের আসল উৎস চিহ্নিত করা অত্যন্ত কঠিন।
২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার তদন্তেও Virtual SIM ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছিল। NIA-এর তদন্ত অনুযায়ী, হামলায় যুক্ত জৈশ-ই-মহম্মদের আত্মঘাতী জঙ্গি উইং ও তার সহযোগীরা ৪০টিরও বেশি ভার্চুয়াল SIM ব্যবহার করেছিল। ওই হামলায় ৪০ জন CRPF জওয়ান নিহত হন।
১. কাশ্মীরে তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগে জঙ্গিরা কী কী মাধ্যম ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ?
নিরাপত্তা আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত রিপোর্টে পর্নোগ্রাফি ও ডেটিং ওয়েবসাইটের চ্যাট, গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছে।
২. কেন প্রচলিত সোশ্যাল মিডিয়ার বদলে এই ধরনের মাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে?
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, প্রচলিত প্ল্যাটফর্মে নজরদারি বাড়ায় তদন্তকারীদের চোখ এড়াতে বিকল্প বা কম নজরে থাকা যোগাযোগ মাধ্যম বেছে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
৩. Tor-based অ্যাপ নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির উদ্বেগ কী?
Tor-ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীর পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। তাই এই ধরনের প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সতর্ক হয়েছে।
৪. PUBG-এর মাধ্যমে কি আগেও জঙ্গি যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছিল?
হ্যাঁ। এর আগে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি PUBG-এর মতো অনলাইন গেমের চ্যাট ফিচার ব্যবহার করে পাকিস্তানভিত্তিক হ্যান্ডলারদের তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগের কথা জানিয়েছিল।
৫. Virtual SIM নিয়ে কেন উদ্বেগ রয়েছে?
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, বিদেশি ভার্চুয়াল নম্বর ব্যবহার করলে যোগাযোগের প্রকৃত উৎস শনাক্ত করা তদন্তকারীদের জন্য কঠিন হতে পারে।
৬. পুলওয়ামা হামলার সঙ্গে Virtual SIM-এর কী সম্পর্ক?
২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার তদন্তে Virtual SIM ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। NIA-এর তদন্তে হামলার সঙ্গে যুক্তদের একাধিক Virtual SIM ব্যবহারের কথা উঠে আসে।
৭. ISI-এর ভূমিকা কি নিশ্চিত হয়েছে?
প্রতিবেদনে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ও তাদের হ্যান্ডলারদের কার্যকলাপের পাশাপাশি ISI-এর ভূমিকা নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরদারির কথা বলা হয়েছে। তবে কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে দায় বা ভূমিকা চূড়ান্ত ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, তা তদন্তের বিষয়।
৮. এই ধরনের যোগাযোগ ঠেকাতে কী করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি?
নিরাপত্তা সংস্থাগুলি প্রচলিত সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি বিকল্প ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ মাধ্যমের উপর নজরদারি বাড়াচ্ছে। সাইবার নজরদারি জোরদার করে সন্দেহজনক যোগাযোগ শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।