৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে প্রস্তাবিত ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র মিছিল বন্ধ করার আর্জিতে আপাতত হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ জানায়, এখনই কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে ধরে নিয়ে মিছিলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা যায় না। তবে এই মামলায় কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিস জারি করেছে আদালত। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর মামলাটি ফের শুনানির জন্য উঠবে।
CJP-র মিছিলকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন প্রাক্তন দিল্লি পুলিশ আধিকারিক রাজেন্দ্র সিং। তাঁর আইনজীবী আদালতে জানান, মিছিলের জন্য এখনও প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। আগামী দিনে দিল্লিতে BRICS সম্মেলনও রয়েছে। ফলে বড় জমায়েত হলে নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
তবে আদালত জানায়, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টি মূলত প্রশাসন ও পুলিশের দায়িত্ব। ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে, তা অনুমান করে এখনই আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। আবেদনকারীকে তাঁর অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের কাছে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
CJP জানিয়েছে, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লির India Gate থেকে নয়াদিল্লি পুলিশ হেডকোয়ার্টার পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা হবে। সংগঠনের দাবি, মৃত NEET পরীক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্য এবং আগের আন্দোলনে পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তোলা ব্যক্তিরা মিছিলের নেতৃত্বে থাকবেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র, যুব সংগঠন ও তরুণদের যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
CJP-র দাবি, ২৫ জুলাইয়ের আন্দোলন প্রত্যাহারের সময়ে সরকার চারটি বিষয়ে পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু তাদের অভিযোগ, এখনও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণ হয়নি—NEET-সহ বিভিন্ন ঘটনায় মৃত ছাত্রদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের FIR প্রত্যাহার এবং RAF ও দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়া। এই দাবিগুলির সমাধান না হওয়ায় ফের আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের বক্তব্য।
এর আগে CJP-র আন্দোলনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টও কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের জবাব চেয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট CCTV ফুটেজ ও অন্যান্য রেকর্ড সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিল।
এখন ৫ সেপ্টেম্বরের মিছিল ঘিরে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আপাতত মিছিল বন্ধ করেনি, তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসনের উপরই রয়েছে।