নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকায় একাধিক প্রকল্প উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবারের এই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য থেকে রাস্তা, রেল থেকে ব্রিজ একাধিক বিষয়ে নয়া ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন আশ্বাসও।
বাংলায় ক্ষমতায় আসার পরে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড চালু করেছে বিজেপি সরকার। যাঁরা সেই প্রকল্পের অধীনে পড়বেন না, তাঁদের জন্য রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। আগের সরকারের স্বাস্থ্যসাথীর সঙ্গে তুলনা টানেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের আমলে ভুয়ো স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ছিল।’ স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমে রাজ্যের ১৭০০ হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যেত। আয়ুষ্মান ভারতের কার্ডে সারা ভারতে চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যায়। তেমনই বিজেপি সরকারের আমলে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা প্রকল্পে রাজ্যে ১৯০০ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সুযোগ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের বাইরে একাধিক প্রথমসারির হাসপাতালে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ মিলবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘নন্দীগ্রামে ১-এর ১৮,২০০ জন বাসিন্দা পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে বাইরে থাকেন। নন্দীগ্রাম ২-এর ১২০০০ পরিযায়ী শ্রমিক বাইরে থাকেন। তাঁরাও বাইরের রাজ্যে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন।’
নন্দীগ্রামের হরিপুরে দমকল কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে। নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মা আহার ক্যান্টিন চালুর ঘোষণা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কিছুদিনের মধ্যে চালু হবে প্রধানমন্ত্রী জনৌষধি কেন্দ্র। এ দিন নন্দীগ্রামেও পুলিশ মর্গের সূচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রেয়াপাড়া গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৩০ শয্যা থেকে বাড়িয়ে ৬০ শয্যা করার ঘোষণা করা হয়েছে। কোয়ার্টার সংস্কারের কাজের সূচনা করা হয়েছে। এছাড়াও আরও একাধিক গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য একাধিক ঘোষণা হয়েছে। নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতালে নিউ মাতৃমা ভবনে কাজ শুরুর ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রোগীর আত্মীয়দের থাকার জন্য জায়গা তৈরি করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত নন্দীগ্রামে অগস্ট মাসে ৬৭ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকেছে। আরও পাঁচ হাজার ভেরিফিকেশনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নন্দীগ্রামের সঙ্গে হলদিয়াকে জোড়ার ব্রিজের কাজ এগিয়ে দিয়েছি। ভূমিপূজনেও আমি আসব, ব্রিজের উপরে প্রথম গাড়িটা নিয়ে আমি যাব। রেল নিয়েও মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর তোপ, ২০২১ সালে হেরে গিয়েছিলেন বলে আগের মুখ্যমন্ত্রী রেল আটকে রেখেছিলেন। তিনি জানান, বিজেপি সরকার এসে জমি দেওয়া শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মার্চের মধ্যে রেল চালু হবে। প্রথম আমি চড়ব আপনাদের নিয়ে।’