কেরিয়ার শুরু থেকে অবসর, ভারতে কোন বয়সে কোন শহরে থাকা বেস্ট? জেনে নিন
আজ তক | ৩১ আগস্ট ২০২৬
বসবাসের জন্য সেরা শহর কোনটি? তা নির্ভর করে আপনার অগ্রাধিকারের উপর। কেউ চাকরিকে গুরুত্ব দেন আবার কারও কাছে ভালো শহরের মাপকাঠি হল সেখানকার পরিবেশ, নিরাপত্তা, জীবন যাপনের ধরন ইত্যাদি। যদিও বয়স ও পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চাহিদা বদলে যায়। কর্মজীবনের শুরুতে যেমন যে শহরে কাজের সুযোগ বেশি,সেই শহর বেশি গুরুত্ব পায়। তেমনই পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা, জীবন যাত্রার খরচ অধিক প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।
Dezerv-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সন্দীপ জেঠওয়ানি এই সংক্রান্ত একটি বিশ্লেষণ সামনে এনেছেন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, বয়স ও জীবনের বিভিন্ন পর্যায় অনুযায়ী ভারতের কোন শহরগুলি বসবাসের জন্য সব থেকে সেরা।
কর্মজীবনের শুরু: হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু
২৫-৩৫ বছর বয়সি অবিবাহিত পেশাদারদের জন্য হায়দরাবাদ এবং বেঙ্গালুরু সবচেয়ে পছন্দের শহর হিসেবে উঠে এসেছে। কারণ এই শহরগুলিতে ক্রয়ক্ষমতা এবং আয় বাড়ানোর সুযোগ সবচেয়ে বেশি। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুই শহরেই ক্রয়ক্ষমতা ভালো। অর্থাৎ, পেশাদাররা তাঁদের উপার্জন দিয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেতে পারেন। একই সঙ্গে সম্পদ তৈরির জন্যও এই দুই শহরের বিকল্প নেই।
পরিবার শুরু করার জন্য সেরা আহমেদাবাদ, চেন্নাই, পুণে
৩০-৪০ বছর বয়সে পরিবার শুরু করেন বেশিরভাগ মানুষ। ফলে তাঁদের অগ্রাধিকারও বদলে যায়। তখন ক্রয়ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও নিরাপত্তা সমান গুরুত্ব পেতে শুরু করে। এই পর্যায়ে আহমেদাবাদ, চেন্নাই এবং পুণে সবচেয়ে উপযুক্ত শহর হিসেবে উঠে এসেছে।
আহমেদাবাদ মাঝারি জীবনযাত্রার খরচের সঙ্গে ভালো নিরাপত্তা প্রদান করার ক্ষেত্রে এগিয়ে। অন্যদিকে চেন্নাই এবং পুণে ক্রয়ক্ষমতা ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে। পরিবারের সদস্য ও প্রয়োজন বাড়লেও এই শহরগুলিতে ভালোভাবে থাকা যায়।
স্কুলপড়ুয়া, সন্তানদের জন্য আহমেদাবাদ, সুরাত, ইন্দোর, কোয়েম্বাটোর, জয়পুর
৩৫-৫০ বছর বয়সি যাঁদের স্কুলপড়ুয়া সন্তান রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, দূষণ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই পর্যায়ে আহমেদাবাদ, সুরাত, ইন্দোর, কোয়েম্বাটোর এবং জয়পুর-কে সবচেয়ে উপযুক্ত শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা এবং দূষণের দিক থেকে এই শহরগুলি তুলনামূলকভাবে ভালো। অর্থাৎ, পরিবারগুলিকে তুলনামূলক কম খরচে নিরাপদ পরিবেশ এবং পরিষ্কার বাতাস পাওয়ার জন্য এই শহরে বসবাস করতে পারে।
সর্বোচ্চ উপার্জনের জন্য হায়দরাবাদ, আহমেদাবাদ, পুণে
৩৫-৫০ বছর বয়সে কর্মরত পেশাদারদের জীবনের সর্বোচ্চ উপার্জনের সময়ে বাড়ির দাম এবং আয়ের অনুপাত, পাশাপাশি জীবনযাত্রার খরচ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই পর্যায়ে হায়দরাবাদ, আহমেদাবাদ এবং পুণে এগিয়ে রয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আলোচনায় থাকা শহরগুলির মধ্যে হায়দরাবাদে property price to income ratio সবচেয়ে কম, ৪.৩। এর অর্থ, আয়ের তুলনায় সেখানে বাড়ি কেনা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। আহমেদাবাদ এবং পুণেতেও এই অনুপাত ৮-এর নিচে। তুলনায় মুম্বইয়ে এই অনুপাত ৩০.১ এবং দিল্লিতে ১৬.১।
অবসর-পূর্ব সময়: পুণে, চেন্নাই, হায়দরাবাদ
৪৮-৬০ বছর বয়সে অবসরের দিকে এগোতে থাকা মানুষের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার আবার বদলে যায়। তখন কেরিয়ার ও আয় বৃদ্ধির তুলনায় জীবনযাত্রার মান, নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই বয়সের মানুষের জন্য পুণে, চেন্নাই এবং হায়দরাবাদ সবচেয়ে উপযুক্ত শহর হিসেবে উঠে এসেছে।
অবসর জীবন: সুরাত, ইন্দোর, কোয়েম্বাটোর, জয়পুর
৫০ বছর বা তার বেশি বয়সি যাঁরা দ্বিতীয় বাড়ি খুঁজছেন অথবা সদ্য কর্মজীবন থেকে অবসর নিয়েছেন, তাঁদের জন্য কোয়েম্বাটোর, জয়পুর এবং সুরাতকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর যাঁরা সম্পূর্ণভাবে অবসর নিয়ে অন্য শহরে চলে যেতে চান, তাঁদের জন্য বিশ্লেষণে সুরাত, ইন্দোর, কোয়েম্বাটোর এবং জয়পুরের কথা বলা হয়েছে।
এই শহরগুলিতে নিরাপত্তা, কম দূষণ, ভালো স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং তুলনামূলক কম সম্পত্তির দাম, সব মিলিয়ে জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আরও ভারসাম্যপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
কলকাতা কোথাও নেই
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই বিশ্লেষণের কোথাও জায়গা পায়নি কলকাতা। অর্থাৎ কেরিয়ার শুরু, স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন, অবসর জীবন কাটানো ইত্যাদি কোনও ক্ষেত্রেই কলকাতা সেরা জায়গা হিসেবে বিবেচিত হতে পারেনি।