এই প্রথম দুর্গাপুজো হচ্ছে পার্কস্ট্রিটের অ্যালেন পার্কে, বিরাট আয়োজন, কী কী চমক?
আজ তক | ৩১ আগস্ট ২০২৬
ক্রিসমাস ফেস্টিভ্যাল মানেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে অ্যালেন পার্ক। ডিসেম্বরের শেষে ক্রিসমাস কার্নিভালকে কেন্দ্র করে বড়দিনের উৎসবে মেতে ওঠে পার্ক স্ট্রিট চত্বর। সেই পার্ক স্ট্রিট এবার জমজমাট থাকতে চলেছে পুজোতেও। পরিবর্তনের বাংলায় এই প্রথম অ্যালেন পার্কে আয়োজন করা হচ্ছে দুর্গাপুজোর। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে প্যান্ডেল তৈরির কাজ। কলকাতা সনাতনী সংঘের উদ্যোগে হতে চলেছে এই পুজো। আয়োজকদের দাবি, বাংলার সংস্কৃতি এবং সনাতনী রীতিনীতি মেনেই হবে অ্যালেন পার্কের দুর্গাপুজো।
প্রসঙ্গত, পার্ক স্ট্রিট ঐতিহ্যগতভাবে দুর্গাপুজোর জায়গা হিসেবে পরিচিত নয়। প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি আগে এই এলাকায় ছোট পরিসরে দুর্গাপুজো হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে সেই পুজো এক বা দু’বারের বেশি হয়নি। তারপর থেকে পার্ক স্ট্রিটে আর দুর্গাপুজো হয়নি বলেই আয়োজকদের দাবি। এবার সেই জায়গাতেই নতুন করে দুর্গাপুজো শুরু করে ইতিহাস তৈরি করতে চান উদ্যোক্তারা। পুজো কমিটির বক্তব্য, অ্যালেন পার্ককে শুধু একটি পুজোর স্থান হিসেবে নয়, বাংলার সংস্কৃতি ও সনাতনী ঐতিহ্য তুলে ধরার একটি বড় মঞ্চ হিসেবেও ব্যবহার করা হবে।
কলকাতা সনাতনী সংঘের সভাপতি তথা বিজেপির মুখপাত্র শঙ্কুদেব পণ্ডা জানান, অ্যালেন পার্কের দুর্গাপুজো নিয়ে একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে। খুব শীঘ্রই খুঁটি পুজোর বদলে করা হবে ভূমি পুজো। তবে ইতিমধ্যেই মণ্ডপসজ্জা শুরু হয়ে গিয়েছে। শিল্পী সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবনায় সাজছে পুজো। আর প্রতিমায় থাকছে সনাতনী ঐতিহ্য। মহালয়া থেকেই থাকবে হাজারো আয়োজন। তবে হিন্দু রীতি মেনে দেবীপক্ষেই হবে পুজোর উদ্বোধন। সাতদিন ধরে চলবে অনুষ্ঠান। বিনামূল্যে উপভোগ করা যাবে বলিউডের নামী-দামি তারকার পারফরম্য়ান্স। পুজো করতে বারাণসী থেকে আসছেন পুরোহিত। অষ্টমীতে বারাণসীর পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণেই হবে অঞ্জলি। সেদিন রাত থেকে পরদিন, অর্থাৎ নবমী পর্যন্ত জগরাতায় অংশ নেবেন পাঁচ হাজর মহিলা। হবে কুমারী পুজোও। দশমীতে মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে চলবে সিঁদুর খেলা।
পুজোর সভপতি শঙ্কুদেব পণ্ডা bangla.aajtak.in-কে আরও জানান, খুব শীঘ্রই সামনে আসছে পুজোর থিম সং। পুজোয় বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের লোকসংস্কৃতি তুলে ধরা হবে। বাউল গান থেকে শুরু করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, উত্তরবঙ্গ এবং বাংলার অন্যান্য এলাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হবে প্রতিদিন সন্ধ্যার বিশেষ আরতি। পাশাপাশি পুজোর প্রধান দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। পুজোর মণ্ডপটি ‘তাণ্ডব’ থিমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হচ্ছে।
শঙ্কুদেব বলছেন, 'পার্ক স্ট্রিট এলাকায় কোনও দুর্গাপূজা হয় না, তাই আমরা ঘেরা মাঠ অ্যালেন পার্কে পুজো শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলাম।' তিনি আরও জানান যে, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গিয়েছে। নতুন এই পুজোকে ঘিরে এতটাই উৎসাহ দেখা যাচ্ছে যে, অনেক বাসিন্দা কলকাতায় থেকে উৎসবে শামিল হওয়ার জন্য তাঁদের বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনাও বাতিল করেছেন। ভক্তি, সংস্কৃতি ও বিনোদনের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ হতে চলেছে অ্যালেন পার্কের দুর্গোৎসব। আর এই পুজোর উদ্বোধন করবেন স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।