পাকিস্তানের সব সময়ই নজর থাকে জম্মু ও কাশ্মীরের দিকে। উপত্যকাকে কী করে অশান্ত করা যায় তার নিত্যনতুন ফন্দিফিকির করতেই থাকে আইএসআই। এতদিন জানা যাচ্ছিল, সোশাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে এখানকার তরুণ প্রজন্মকে ফুঁসলে সন্ত্রাসের পথে আনতে চেয়েছে তারা। কিন্তু এটা এবার পুরনো হয়ে গিয়েছে বলে দাবি। পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট, গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং বিশেষ ধরনের এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে পাক জঙ্গি সংগঠন সন্ত্রাসবাদী নিয়োগ করছে বলে জানিয়েছে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
ওই সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জঙ্গিরা ফ্রান্সের একটি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করছে, যার মাধ্যমে সিম কার্ড বা টেলিফোন নম্বর ছাড়াই ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড’ বার্তা আদান-প্রদান করা যায়। এর ফলে ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গেই কিছু পর্নোগ্রাফি প্ল্যাটফর্মে ‘রিয়েল-টাইম চ্যাট’-এর সুবিধা থাকে। মূলত ইউজাররা ডেটিংয়ের সঙ্গী খুঁজতে সেখানে মেসেজ করেন। কিন্তু জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির ‘হ্যান্ডলার’রা এই চ্যাটকেও কাজে লাগাচ্ছে। দিল্লির নজরদারি এড়াতেই যোগাযোগের এই বিকল্প মাধ্যমগুলির ব্যবহার করছে তারা।
স্বাভাবিক ভাবেই এই ধরনের অপরাধী কার্যকলাপ খতিয়ে দেখতে তৎপর রয়েছে প্রশাসন। নজরে রয়েছে ভিয়েতনামের অ্যাপ্লিকেশনগুলি। এছাড়া মুনচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মও নজরদারিতে রয়েছে। এটি চিনা অ্যাপ। এর বেশ কয়েকটি সংস্করণ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা ইউজারদের কাছাকাছি থাকা সিঙ্গেলদের খুঁজে পেতে সহায়তা করে। সেই চ্যাট এখন সন্ত্রাসীদের যোগসূত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা যাচ্ছে, বহু পর্ন ওয়েবসাইট এখন ভারতে নিষিদ্ধ। কিন্তু ভিপিএন ব্যবহার করে অনেকে তা ব্যবহার করেন। এবং তা ব্যবহার করে বার্তা আদানপ্রদান করা হচ্ছে। বিভিন্ন কার্যকলাপের নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে। ফলে নজরদারি চালিয়েও অনেক সময়ই এর হদিশ পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। একই ভাবে চিন্তা বাড়াচ্ছে ভার্চুয়াল সিমও। কেননা এই সিম পরিষেবার মাধ্যমে ফোনে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করলেও তার উৎস চিহ্নিত করা যায় না সহজে। এটাই কাজে লাগাচ্ছে জঙ্গিরা।