ক্রেতারা যে পেট্রল কিনছেন, তাতে কত শতাংশ ইথানল মেশানো রয়েছে? তা গ্রাহকদের স্পষ্টভাবে জানানো বাধ্যতামূলক করতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন এক নাগরিক। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম এম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি বরালের ডিভিশন বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। যদিও ওই একই আবেদন নিয়ে মামলাকারী সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে মামলা করতে পারেন বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
ওই আবেদনে দাবি করা হয়েছিল, দেশের প্রতিটি পেট্রল পাম্পকে উল্লেখ করতে হবে, পেট্রলে কত শতাংশ ইথানল মেশানো আছে। ক্রেতা হাতে যে ফুয়েল বিল পাবেন, সেখানেও পেট্রলে ইথানলের শতাংশ উল্লেখ করার দাবি জানানো হয়েছিল ওই মামলায়।
এর সঙ্গে কোন গাড়ি ইথানল ব্লেন্ডেড পেট্রল ব্যবহারের উপযোগী সেটা সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশের দাবি করা হয়েছিল। গাড়ির মডেল, ইঞ্জিন, কোন বছরে নির্মিত-সহ সহ তথ্য নিয়ে একটি ডেটাবেস তৈরির আবেদন করা হয়েছে, যেটা যে কোনও নাগরিক দেখতে পারবেন। মামলার আবেদনকারীর দাবি ছিল, পেট্রল কেনার সময়ে তাঁর জ্বালানিতে কতটা ইথানল রয়েছে তা জানার অধিকার গ্রাহকের রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি অনুযায়ী, পেট্রলে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মেশানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। পেট্রলে ২০ শতাংশের বেশি ইথানল মেশানোর বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সেটা যদি হয় তার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী, গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা ও তেল সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
E20 পেট্রল আদতে ২০ শতাংশ ইথানল এবং ৮০ শতাংশ পেট্রলের মিশ্রণ বা ব্লেন্ডিং। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এর ফলে পেট্রল আমদানি কমবে এবং দেশের অর্থভাণ্ডারের উপর চাপ কমবে। ইথানল ব্যবহার করে আদতে দেশের চাষিদের আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করাও সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
E20 পেট্রল ব্যবহার করলে গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হবে, মাইলেজ কমবে, গাড়ির যন্ত্রাংশের ক্ষতি হবে এমন নানা আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। কিছু পুরোনো গাড়িতে মাইলেজ কমবে বলে কেন্দ্রের তরফেই জানানো হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্ট ইথানল-ব্লেন্ডিং নীতি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি এবং পেট্রলে ইথানলের শতাংশ জানানো যাবে না—এমন কোনও নির্দেশ দেয়নি। সুপ্রিম কোর্ট শুধুমাত্র এই মামলা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে এবং আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট হাই কোর্টে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে।