সরকারি মহলে কোনও ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে নতুন সরকার। দুর্নীতিগ্রস্ত অধিকারিককে ধরতে ফাঁদ পেতেছিল রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা। হাতেনাতে ধরা পড়লেন উলুবেড়িয়ার সাব রেজিস্ট্রি অফিসের আধিকারিক জীবনকৃষ্ণ দাস। সোমবার তাঁকে বমাল গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর, এ দিন বিকেলে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে নিজের চেম্বারে বসে একজন ল ক্লার্কের কাছ থেকে ঘুষ নিচ্ছিলেন ওই আধিকারিক বলে অভিযোগ। আগে থেকেই নির্দিষ্ট টাকায় কেমিক্যাল মাখিয়ে রেখে দিয়েছিলেন আধিকারিকরা। জীবনকৃষ্ণ দাস টাকা নেওয়ার সময় তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন আধিকারিকরা। পরে তাঁর হাত জলে ডোবাতেই জল বেগুনি রঙের হয়ে যায়।
সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ল ক্লার্ক প্রেমানন্দ কর অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার একজন ক্লায়েন্টের একটি জমি রেজিস্ট্রির জন্য ২০ হাজার টাকা ঘুষের দাবি করা হয়েছিল। এর পরেই রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখায় বিষয়টি আমি জানাই। সেইমতো আজ ফাঁদ পাতা হয়েছিল। টাকা নেওয়ার সময় ওঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন আধিকারিকরা।’ প্রেমানন্দ করের আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত আধিকারিক বিভিন্ন কাজের জন্য মাঝেমধ্যেই ঘুষ নেন। লাগাম ছাড়া টাকার দাবি ছিল। আজ তার ফল মিলল।
প্রসঙ্গত, এর আগে ১৭ অগস্ট হাওড়া জেলার ব্যাঁটরা থানার সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) সুব্রত সরকারকে হাতেনাতে ধরা হয়। বধূ নির্যাতনের মামলা চাপা দিতে গিয়ে টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন তিনি। একই ভাবে, নাজিরগঞ্জ ফাঁড়িতে কর্মরত কনস্টেবল শুভময় মণ্ডলকেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ধরা হয়েছিল।