• আউশগ্রামের স্কুলে মিড ডে মিলে তাল ফুলুরি, লুচি, বড়া, কচি কচি মুখগুলোয় হাসি আর ধরে না...
    এই সময় | ৩১ আগস্ট ২০২৬
  • ভাত-ডালের পরে পাতে তালের ফুলুরি, তালের লুচি, তালের বড়া। শিবদা স্কুলে অভিনব ‘তাল উৎসব’। ভাত, ডাল, তরকারির পরে পাতে তালের ফুলুরি, তালের লুচি এবং তালের বড়া! ভাদ্র মাসে তালের মরশুমকে ঘিরে অভিনব উদ্যোগ নিল পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের শিবদা নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়। শনিবার বিদ্যালয়ে পালিত হলো বিশেষ ‘তাল উৎসব’। মিড ডে মিলের নিয়মিত খাবারের পাশাপাশি খুদে পড়ুয়াদের জন্য পরিবেশন করা হল তালের তৈরি একাধিক ঐতিহ্যবাহী পদ।

    ভাদ্র মাস মানেই গ্রামবাংলায় তাল পাকার মরশুম। বাংলার মাটি ও সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িয়ে থাকা এই ফলকে কেন্দ্র করে এক সময়ে তৈরি হতো নানা ধরনের ঘরোয়া খাবার। এখন অবশ্য সে সব প্রায় হারাতে বসেছে। সেই হারাতে বসা খাদ্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে খুদে পড়ুয়াদের পরিচয় করিয়ে দিতেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই বিশেষ উদ্যোগ।

    শিবদা নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ে বর্তমানে পড়ুয়ার সংখ্যা ২২৯ জন। বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা পাঁচজন এবং পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠন হয়। ভাদ্র মাসে তালের মরশুমকে কাজে লাগিয়ে পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ এই আয়োজন করা হয়। শনিবার মিড ডে মিলের নিয়মিত ভাত, ডাল ও তরকারির পাশাপাশি পড়ুয়াদের পাতে জায়গা করে নেয় তালের ফুলুরি, তালের লুচি এবং তালের বড়ার মতো সুস্বাদু পদ। একসঙ্গে তালের তৈরি একাধিক খাবার পেয়ে খুদে পড়ুয়ারাও চমকিত, দারুণ খুশি। তালের বড়ায় কামড় দিয়ে খিলখিলিয়ে হেসে উঠেছে ছোট্ট ছোট্ট মুখগুলি।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৌমেন পাঁজা বলেন, ‘এটা নতুন কোনও উদ্যোগ নয়। মাঝেমধ্যেই বিশেষ বিশেষ দিনে পড়ুয়াদের দুপুরের খাবারের সঙ্গে বিশেষ কোনও পদ রাখার চেষ্টা করা হয়। এখন তালের মরশুম চলছে। তাই এবার পড়ুয়াদের তালের বিভিন্ন পদ খাওয়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    প্রধান শিক্ষক আরও জানান, মিড ডে মিলের রান্নার দায়িত্বে থাকা চার জন দিদিই তালের ফুলুরি, তালের লুচি, তালের বড়া-সহ বিভিন্ন খাবার তৈরি করেছেন। নিজেদের চেনা-জানা উপকরণ দিয়েই তৈরি করা হয়েছিল এই সমস্ত ঐতিহ্যবাহী পদ। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কথায়, শুধুমাত্র পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য নয়। নতুন প্রজন্মকে স্থানীয় সংস্কৃতি এবং গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা খাদ্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করানোও প্রয়োজন। সেই ভাবনা থেকেই ‘তাল উৎসব’-এর আয়োজন করা হয়েছে।

    বাংলার (news in bengali) মাটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা তালের মতো একটি পরিচিত ফলকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগে একদিকে যেমন খুদে পড়ুয়াদের রসনাতৃপ্তি হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের এই অভিনব ‘তাল উৎসব’ ঘিরে তাই পড়ুয়াদের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যেও ছিল বিশেষ উৎসাহ।

  • Link to this news (এই সময়)