• ‘জল আর রক্ত এক সঙ্গে…’ সিন্ধু চুক্তি রদ নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশ খারিজ করল ভারত
    এই সময় | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি মেনে চলতে হবে ভারতকে বলে রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত। তবে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের ওই আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায় খারিজ করে দিল ভারত। সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি স্থগিতই থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। এরই সঙ্গে ‘রক্ত ও জল একসঙ্গে বইতে পারে না’ বলেও জানিয়ে দিয়েছে ভারত।

    সিন্ধু চুক্তি স্থগিত

    গত বছর এপ্রিলে পহেলগামে পর্যটকদের উপর সন্ত্রাসবাদী হামলার পরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ করেছিল ভারত। এগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখা। এই নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। ভারতের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল পাকিস্তান। দ্য হেগ-এ অবস্থিত কোর্ট অফ আরবিট্রেশন (Court of Arbitration) জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে জলবণ্টন চুক্তি মেনে চলতে হবে ভারতকে। সোমবার এই রায় দিয়েছে ওই আন্তর্জাতিক আদালত।

    আদালতের নির্দেশ

    ওই আদালত জানিয়েছে, বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ফলে সেই চুক্তি একতরফা ভাবে বাতিল বা স্থগিত করার কোনও ক্ষমতা ভারতের নেই। সেই সঙ্গেই দু’দেশের মধ্যে সিন্ধু জলচুক্তি পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে বলেও জানিয়েছে ওই আদালত।

    এরই সঙ্গে রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প (Ratle Hydro-Electric Plant) নিয়েও পাকিস্তানের উদ্বেগের কথা বিচার করে অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ করার কথা জানিয়েছে আদালত। জম্মু ও কাশ্মীরের ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ কাটছাঁট করতেও নয়াদিল্লিকে বার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত।

    ভারতের জবাব

    আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত এই রায় ঘোষণার পরেই পত্রপাঠ তা খারিজ করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জারি করা বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখা হবে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাও জানিয়েছে নয়াদিল্লি। আন্তর্জাতিক ওই আদালতের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভারত। নয়াদিল্লির জানিয়েছে, সালিশি আদালত বা CoA ‘অবৈধ ভাবে’ গঠিত হয়েছিল। ফলে ওই সংস্থায় রায় বা কথার কোনও মূল্য নেই।

    বিশ্বব্যাঙ্ক কর্তৃক নিযুক্ত একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে আগামী বছরের জুলাইয়ের মধ্যে হিমালয় অঞ্চলে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ সিন্ধু জলচুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনাও খারিজ করেছে ভারত। ‌

    সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি

    উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে, প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর আমলে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধুবন্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ভারত এবং পাকিস্তান কোন কোন নদীর জল পাবে তা স্পষ্ট করে লেখা হয় তাতে।  

    তবে, গত বছর এপ্রিলে পহেলগামে জঙ্গি হামলার পরে ওই চুক্তি স্থগিত করার কথা জানায় নয়াদিল্লি। ভারত পরিষ্কার করে জানিয়ে দেয়, যতদিন না পাকিস্তান আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে সহায়তা দেওয়া বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয় ভাবে বন্ধ করে ততদিন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। জল এবং রক্ত একসঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না বলেও জানিয়েছিল কেন্দ্র। এখনও সেই অবস্থানেই অনড় নয়াদিল্লি।

  • Link to this news (এই সময়)