ফের একবার ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। চলতি সপ্তাহেও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে নিম্নচাপের ভ্রুকুটি রয়েছে। আর তার জেরেই আগামী ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত হবে।
সোমবারের ওয়েদার বুলেটিনে মৌসম ভবন জানিয়েছে, দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ি জেলায় অতিভারী বৃষ্টিপাত শুর হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত এইরকম আবহাওয়া চলবে।
হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, নিম্নচাপ অঞ্চলটি পশ্চিম এবং উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর জেরে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টি চলবে বুধবার পর্যন্ত।
অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে হিমালয়ের পাদদেশে দার্জিলি, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায়। আগামী ৪ তারিখ পর্যন্ত উত্তরের এই জেলাগুলিতে বৃষ্টিপাত চলবে।
IMD মৎস্যজীবীদের এখনই সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূলে মাছ ধরতে যেতে বারণ করা হয়েছে মঙ্গলবার পর্যন্ত।
এই নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হওয়ায় ইতিমধ্যেই দক্ষিণবঙ্গের একটা বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। রবিবার থেকে টানা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে পর্যটকে ঠাসা দিঘাতে। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দিঘায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৭৪ মিলিমিটার। এরপরেই রয়েছে সাগর দ্বীপ। সেখানে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬৫ মিলিমিটার। হলদিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৬১ মিলিমিটার, সুরিতে ৩৩ মিলিমিটার।
সেপ্টেম্বর হল ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর শেষ মাস। এই মাসেই বিদায় নিতে পারে বর্ষা। তবে এরপরও গোটা দেশে একইভাবে বর্ষা সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, মূলত পূর্ব, মধ্য এবং উত্তর ভারতের কিছু অংশেই বর্ষার নতুন করে সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর এটাই আপাতত ভাল খবর। এর ফলে বিস্তির্ণ অঞ্চলে বর্ষার ঘাটতি কমতে পারে।