• হিমঘরে মজুত ৭০ শতাংশ আলু, কমছে চাহিদা, লোকসানের মুখে কৃষক-ব্যবসায়ীরা
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • উত্তরবঙ্গের আলু চাষ আজ বিপর্যয়ের মুখে। মজুতদার থেকে শুরু করে কৃষকরাও লোকসানের মুখে পড়েছেন। হিমঘরগুলিতে মজুত প্রায় ৭০ শতাংশ আলু রয়েছে। এদিকে চাহিদা কম। এর ফলে আলুকেন্দ্রিক বার্ষিক দেড় হাজার কোটি টাকার কারবার বর্তমানে বিপর্যয়ের মুখে। বিমার টাকা মিললেও তাতে লোকসান কমেনি।

    উত্তরবঙ্গে ৮০টিরও বেশি হিমঘরে ৩ কোটি ২৫ লক্ষ প্যাকেটের থেকে বেশি আলু মজুত হয়। জুলাই পর্যন্ত মাত্র ১৮ শতাংশ আলু বেরিয়েছে। তবে আগস্টে সর্বাধিক ৩০ শতাংশ আলু বেরোতে পারে বলে হিমঘর ব্যবসায়ীরা মনে করছেন। আগামী নভেম্বরের শেষেও বিপুল পরিমাণ আলু হিমঘরে থাকবে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।

    চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দাম পড়ে যাওয়ার ফলেই আলুর বাজারে এই বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। এর আগের মরশুমে ৫.৫০-৬.৫০ টাকা কেজি দরে আলু লোড হয়েছিল। ভাড়া, বস্তা, পরিবহণ ও শ্রমিক সবমিলিয়ে কৃষকদের আরও কেজি প্রতি ৩.৫০ টাকা খরচ হয়েছে। এখন আলুর বন্ড বিক্রি হচ্ছে ১.৫০-২ টাকা দরে। পরিবহণ ও বাছাইয়ের পর বাজারে দাম মিলছে ৫-৫.৫০ টাকা প্রতি কেজিতে।

    কেজিতে ৪-৫ টাকা লোকসানের ভয়ে বকেয়া ভাড়া মিটিয়ে কেউ হিমঘর থেকে আলু বের করছেন না। রাজ্য হিমঘর মালিক সমিতির উত্তরবঙ্গ আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক মনোজ সাহা বলেন, ‘সামান্য অগ্রিমে আলু লোড হয়। নিকাশির সময় বাকি ভাড়া মেলে। আলু মজুত থাকলে বকেয়া মিলবে না।’উত্তরবঙ্গ আলু ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবলু চৌধুরী বলেন, ‘আড়াই দশকের অভিজ্ঞতায় বলছি, আলুর ব্যবসা এর আগে এমন বিপদে পড়েনি। বিগত সরকারের খামখেয়ালি ও রপ্তানি আটকে আলুর ব্যবসাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলা হয়েছে।’
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)