‘সিন্ধুচুক্তি মানতে হবে ভারতকে’, আন্তর্জাতিক আদালতের ‘মূল্যহীন’ রায় ফুৎকারে ওড়াল দিল্লি
প্রতিদিন | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি ভারতকে মেনে চলতে হবে, সোমবার এই মর্মে রায় দিয়েছে হেগের আন্তর্জাতিক শালিসি আদালত। যদিও আদালতের ওই রায় খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি। এমনকী আন্তর্জাতিক শালিসি আদালতের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। বিদেশ মন্ত্রকের মন্তব্য, ‘‘অবৈধ ভাবে গঠিত ওই সংস্থার কথার কোনও মূল্য নেই।’’ ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর ছড়ি ঘোরানোর এখতিয়ার নেই হেগের আদালতের।
পহেলগাঁও হামলা তৎসহ ভারত-পাক যুদ্ধের পর সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে দিল্লি। এরপরই বিশ্বের প্রাচীনতম আন্তর্জাতিক শালিসি আদালতের দ্বারস্থ হয় পাকিস্তান। সোমবার ওই আদালত জানিয়েছে, চুক্তি বাতিল বা স্থগিত করার কোনও যুক্তিযুক্ত কারণ ছিল না ভারতের কাছে। উপমহাদেশের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তিটি এখনও পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। কারণ বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত চুক্তিটি একতরফা ভাবে বাতিল বা স্থগিত করার ক্ষমতা নেই ভারতের।
পালটা এক বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘‘আদালতের রায়ের কোনও প্রভাব ভারত সরকারের পদক্ষেপের উপর পড়বে না। সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতই রাখা হবে।’’ পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শালিসি আদালতের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। দিল্লির সাফ কথা, ‘‘অবৈধ ভাবে গঠিত ওই সংস্থার কথার কোনও মূল্য নেই।’’ যদিও পাকিস্তানের স্বার্থের কথা ভেবে বিশ্বব্যাঙ্কের একজন প্রতিনিধি হিমালয় অঞ্চলের ভারতের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র খতিয়ে দেখব বলে জানিয়েছে হেগের আদালত। এই রায়কেও পাত্তা দিচ্ছে না ভারত।
প্রসঙ্গত, গত মার্চ মাসে বিশ্ব জল দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রসংঘে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ বলেছিলেন, “চুক্তির পবিত্রতা রক্ষার কথা বলার আগে পাকিস্তানকে অবশ্যই মানব জীবনের পবিত্রতা রক্ষা করতে হবে। যতক্ষণ না ‘বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের কেন্দ্রবিন্দু’ পাকিস্তান তার আচরণ শুধরে নেয়, ততদিন সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে কোনও কথা হবে না।” ১৯৬০ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, পহেলগাঁও হামলার পর সাময়িক ভাবে তা স্থগিত রাখার কথা জানায় নয়াদিল্লি। ভারতের এই পদক্ষেপকে ভিয়েনা চুক্তির বিধিভঙ্গ হিসাবে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।