বিজেপির সঙ্গে যোগসাজস! দলবিরোধী কার্যকলাপে ৬ তৃণমূল নেতাকে সাসপেন্ড, কী বার্তা মহুয়ার?
প্রতিদিন | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে তেহট্ট ১ পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা প্রস্তাব! দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ওই পঞ্চায়েত সমিতির ছয় সদস্য, স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতাকে সাসপেন্ড করল কালীঘাট তৃণমূল। ছয় বছরের জন্য ওই তৃণমূল নেতাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে খবর। এই বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বিজেপি বা অন্যান্যদের সঙ্গে হাত মেলালে এমনই শাস্তির মুখে পড়তে হবে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কড়া বার্তা দিয়েছেন মহুয়া।
সাসপেন্ড হওয়া ছয় সদস্য হলেন গোপালচন্দ্র রায়, সুকমল বিশ্বাস, মমতা বিশ্বাস, উল্লাসী বিশ্বাস, পারমিতা হালদার এবং রমা প্রামাণিক মণ্ডল। মহুয়ার পোস্টে তাঁদের সদস্য নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে। তেহট্ট-১ পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা প্রস্তাব এসেছিল। ৩৩ আসনের ওই পঞ্চায়েত সমিতিতে বিজেপির ১৩ জন, তৃণমূলের ৯ জন, সিপিএমের ৯ জন এবং কংগ্রেসের ২ জন সদস্য ছিলেন।
রাজ্যের পালাবদলের পর ওই বোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিজেপি। গত ২০ আগস্ট সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট হয়। সেখানে বিজেপির ১৩ জন এবং তৃণমূলের ৬ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সভাপতি ইমরান শেখ এবং সহ সভাপতি উত্তম বিশ্বাস সভায় উপস্থিত ছিলেন না। উপস্থিত ১৯ জন সদস্যই অনাস্থার পক্ষে ভোট দেন। ফলে ১৯-০ ভোটে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হয় এবং সভাপতির পদ খারিজ হয়। ওই পঞ্চায়েত সমিতি হাতছাড়া হয় তৃণমূলের। এরপরই ওই ছয় তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হল।
সামাজিক মাধ্যমে মহুয়া মৈত্র এই বিষয়ে পোস্ট করেন। কৃষ্ণনগরের তৃণমূলের জেলা সভাপতি পদেও রয়েছেন তিনি। মহুয়া লিখেছেন, “একা দল করতে হলে তাই করব। কিন্তু প্রতিটি বেইমান, লোভী, স্বার্থপরকে দরজা দেখানো হবে।” মহুয়া মৈত্র পরে একটি ভিডিওবার্তাও দিয়েছেন। সাংসদের হুঁশিয়ারি, “বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কোনও অনাস্থা প্রস্তাবে সই করলে, দলের বিরোধী হয়ে অনাস্থায় ভোট দিলে সাসপেন্ড করা হবে। নতুন করে শুরু করতে হলে তাই করব। এতদিন দলে থেকে সব সুবিধা ভোগ করে এখন বিজেপির সঙ্গে হাত মেলালে সাসপেন্ড করা হবে। তৃণমূলে আর তাঁদের জায়গা নেই।”