• ‘বাবা, দাঁড়াও’, ডাক শুনে থামল কনভয়, শুভেন্দুকে আশীর্বাদ করে কী বললেন বৃদ্ধা?
    প্রতিদিন | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • “বাবা, দাঁড়াও।” মধ্যমগ্রামে যশোর রোডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গাড়ি লক্ষ্য করে ৬৮ বছরের স্বপ্না দাসের ডাক। কর্তব্যরত পুলিশ তাঁকে সরিয়ে দিতে যায়। সেসময় গাড়ি থামিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওনাকে আসতে দিন আমার কাছে।” গাড়ির কাছে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রীকে দু’হাত দিয়ে মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করেন মধ্যমগ্রামের শ্রীনগরের স্বপ্না। এরপর জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মপূরণ করেও টাকা পাননি তিনি। স্বপ্নাদেবীর কথা শুনেই দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

    তাঁর বয়সের বিষয়টি মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার বদলে তিনি বার্ধক্য ভাতা পাবেন। এরপরই জেলাশাসক শিল্পা গৌরিসারিয়াকে স্বপ্নার নাম-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে তাঁকে পাঠানোর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার মধ্যমগ্রামে উত্তর ২৪ পরগনা মহিলা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেডের ৩৫তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সোমবার এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আমন্ত্রণপত্র না থাকায় অনুষ্ঠানে ঢুকতে পারেননি স্বপ্না। তাই যশোর রোডের ধারে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের সমস্যার কথা জানাবেন বলেই এসেছিলেন।

    স্বপ্না জানান, গত ১৫ জুলাই বার্ধক্য ভাতার জন্যও আবেদন করেছিলেন। তবে ভাতার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে মুখ্যমন্ত্রীকে ছেলের মতো আশীর্বাদ করতে পারার মুহূর্ত। তাঁর কথায়, “আমি যে ওনার মাথায় হাত রেখে ওনাকে আশীর্বাদ করেছি ছেলের মতো, এটাই আমার সব থেকে বড় পাওনা। এর থেকে বড় পাওনা আমার কাছে আর কিছু হতে পারে না।” প্রায় ১২ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন স্বপ্না দাস। একমাত্র ছেলে শুভজিৎ দাস এমএ পাশ করেও চাকরি পাননি। ছেলে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ীও। আত্মীয়দের সাহায্যেই চলছে মা-ছেলের সংসার। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজের সমস্যার কথা জানাতে পেরে আপ্লুত স্বপ্না। তাঁর কথায়, “আশা করব, মুখ্যমন্ত্রী আরও ভালো কাজ করবেন।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)