• বিজেপির মাল্যদান, পালটা দুধে শুদ্ধিকরণ কংগ্রেসের! নেহরু মূর্তি বিতর্কে ফের তপ্ত দুর্গাপুর
    প্রতিদিন | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর পূর্ণাঙ্গ মূর্তি! এই ঘটনা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হতেই সেই মূর্তি দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন স্কুল চত্বরে পুনরায় প্রতিস্থাপন করা হল। এরপরই মূর্তিতে মাল্যদান করেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। তারপরেই দুধ দিয়ে মূর্তি শুদ্ধিকরণ করে পাল্টা জবাব দিল কংগ্রেস। এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন।

    সোমবার দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন স্কুলের পাশে মেডিটেশন সেন্টারে নেহরুর পূর্ণাঙ্গ মূর্তি পুনঃস্থাপন করা হয়। এরপর মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান বিজেপির পশ্চিম বর্ধমান জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল-সহ স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। অভিযোগ উঠেছিল, রাখি পূর্ণিমার দিন দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন রোডের ওই মেডিটেশন সেন্টার থেকে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর মূর্তি সরিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। অভিযোগের আঙুল ওঠে বিজেপির দিকে। যদিও সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে বিজেপি।

    সোমবার এই বিতর্কের মাঝেই নেহরুর মূর্তি পুনরায় স্কুল চত্বরে বসানো হয়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, মূর্তি সরানোর ঘটনায় তাঁদের কোনও ভূমিকা নেই। বরং তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ চাপানো হয়েছে। তবে বিজেপির মাল্যদানের পরেই পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। বিজেপি নেতৃত্ব চলে যাওয়ার পর ঘটনাস্থলে হাজির হন পশ্চিম বর্ধমান জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী-সহ কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা এরপর নেহরুর মূর্তিতে দুধ ঢেলে শুদ্ধিকরণ করেন তাঁরা। এর পাশাপাশি বিজেপিকে কড়া ভাষায় নিশানা করেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।

    বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডলের দাবি, “নেহরুর মূর্তি ফেলে দিয়ে বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা হয়েছে। বিজেপি এই ধরনের সংস্কৃতির পক্ষে নয়। নিজেরাই জহরলাল নেহরুর মূর্তি ফেলে দিয়ে বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপাতে চেয়েছিল। আমরা সেই মূর্তি তুলে দিলাম, মাল্যদান করলাম, শ্রদ্ধা জানালাম।” পাল্টা কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তীর অভিযোগ, “মূর্তি সরানোর ঘটনার সঙ্গে বিজেপির লোকজনই যুক্ত। জওহরলাল নেহরু, বিবেকানন্দ, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুর করে সেই দেশদ্রোহী শক্তিরা এখানে এসেছিল। সেই জন্যই আমরা দুধ দিয়ে পণ্ডিত জহরলাল নেহরুকে স্নান করালাম।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)