বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটে বেআইনি বিলবোর্ডে খুলতে গেলে ধুন্ধুমার কাণ্ড। অভিষেকের অফিসে উঠতে পুরসভা আধিকারিক-পুলিশকে বাধা। এমনকী ধাক্কা দিয়ে পুলিশকে সরিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। সেই বিলবোর্ড কাণ্ডে এবার অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পৌঁছে গেল লালবাজারের সায়েন্টিফিক উইং। গেট থেকে সিঁড়ি বেয়ে বিল্ডিংয়ের উপরে ওঠায় কোথায়, কীভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করতে লালবাজারের সাইন্টিফিক উইংয়ের তরফে স্কেচ নেওয়া হয়, তদন্তকারী অফিসারদের সাহায্য নিয়ে প্রতিটা ফ্লোরে এবং অশান্তি-স্থলের ছবিও তোলেন ফটোগ্রাফাররা।
পুরসভার কাজে কেন বাধা, পুলিশের উপর চড়াও কীভাবে? সোমবার দমকল বিভাগের ফায়ার অডিট চলাকালীনই ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পৌঁছে যান কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা। বৃহস্পতিবার অভিষেকের অফিসে কত লোকের জমায়েত, কীভাবে অশান্তির ছক। এদিন লালবাজারের সায়েন্টিফিক উইংয়ের তরফে স্কেচমেকার ও ফটোগ্রাফারটা তথ্য সংগ্রহ করেন। কত লোক ঢোকেন সেদিন ওই অফিসে, কার অবস্থান, কোথায় ছিল। যে সিঁড়িতে পুরসভার আধিকারিক, কর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল, সেখানকার স্কেচ আঁকা হয়, সেই স্কেচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ছবি তোলেন ফটোগ্রাফার। সেই সঙ্গে ওই বিল্ডিংয়ে মোট ক’টা সিঁড়ি, সেগুলির মাপকত, আনুমানিক কত লোক ধরে ওই স্থানে, সমস্ত তথ্য নেওয়া হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট। ওই বিকেলে বেশ কয়েকজন পুরকর্মী এবং পুলিশ আধিকারিক অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের পার্টি অফিসে পৌঁছন। তাঁদের সঙ্গে ছিল গ্যাসকাটার। জানানো হয়, এখানকার বিলবোর্ডটি বেআইনি, তা খুলে ফেলতে হবে। খবর পেয়ে বেরিয়ে আসেন অভিষেক। বিলবোর্ড খোলার অর্ডার কপি দেখতে চান। অভিষেকের দাবি, পুরকর্মীরা তা দেখাতে পারেননি। তা নিয়ে দু’পক্ষের বাকবিতণ্ডাও হয়। তৃণমূল সাংসদ প্রশ্ন তোলেন, নিজের অফিসের বাইরে কী বোর্ড লাগানো হবে, তা কি পুরসভা ঠিক করবে? পুলিশের তাগিদ পুরসভার থেকে বেশি। পুর আধিকারিকদের ক্যামাক স্ট্রিটে যাওয়া বেআইনি বলেও তোপ দেগেছিলেন তিনি।
বিলবোর্ড বিতর্কের মাঝে এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পুলিশ ও দমকল। সঙ্গে ছিলেন পুরসভার আধিকারিকরাও। তারাপীঠ-নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যুর পর রাজ্যজুড়ে অ্যাকশনে নেমেছে দমকল। বহুতল বিল্ডিংগুলিতে ফায়ার অডিট খতিয়ে দেখতে চলছে অভিযান। সোমবার দুপুরে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসেও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে শেক্সপিয়র সরণির পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে পৌঁছে যান দমকল আধিকারিকরা। বিল্ডিংয়ের বেসমেন্ট থেকে ছাদ পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরে কোনায় কোনায় পরিদর্শন করেন আধিকারিকরা। দমকল সূত্রে খবর, সাত তলা ওই বিল্ডিংয়ের পাঁচ তলা পর্যন্ত ফায়ার সিস্টেমে কোনও গন্ডগোল দেখা না গলেও, ছয় এবং সাততলার ক্ষেত্রে বেশকিছু গলদ নজরে এসেছে দমকল কর্মীদের।