• ‘নদীর জল যেন মেঘের মতো নেমে আসছে’, ইষ্টদেবতাকে কেন ধন্যবাদ দিচ্ছেন নেপাল-ফেরত অঞ্জনা?
    এই সময় | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সড়ক পথে মান সরোবার যাওয়ার জন্য এ বারই ছিল শেষ সুযোগ। সব ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু নেপালে হড়পা বানের ধাক্কায় শেষ পর্যন্ত সব বাতিল। মাঝ রাস্তা থেকে কোনওমতে বিপদ কাটিয়ে ফিরেছেন উত্তরপাড়ার বাসিন্দা অঞ্জনা সান্যাল। ৬৯ বছরের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা মনে করেন, কৈলাস অধিপতির আশীর্বাদেই বিপদ স্পর্শ করেনি তাঁকে।

    কলকাতার একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে মান সরোবার বেড়াতে গিয়েছিলেন উত্তরপাড়ার ব্যানার্জী পাড়া স্ট্রিটের বাসিন্দা অঞ্জনা সান্যাল। সতেরো জনের দল ছিল। ২৬ অগস্ট কাঠমান্ডু থেকে বাসে করে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের চিনা ইমিগ্রেশন অফিসের দিকে রওনা দেন তাঁরা। ওই দিনই হড়পা বানের ঘটনা ঘটেছিল। অঞ্জনা সান্যাল জানাচ্ছেন, সব ঠিকঠাকই ছিল। মাঝে একটু বিরতিতে বাস দাঁড়ায়। মিনিট দশেক পরে বাস ছাড়ে, তারপরেই বাস চালকের কাছে খবর আসে হড়পা বান এসেছে। সেখান থেকেই কাঠমান্ডুর দিকে বাস ঘুরিয়ে দেন চালক।

    অঞ্জনা সান্যাল বলছেন, ‘আমরা যখন বেরোলাম, আকাশ পরিষ্কার ছিল। বিরতির পরে বাস ছাড়তেই হঠাৎ করেই কিছুটা দূরে দেখি ধোঁয়ার কুন্ডলীর মতো। নদীর জল যেন মেঘের মতো নেমে আসছে।’ তিনি জানান, বাসের চালক তৎপর ছিলেন। তড়িঘড়ি বাস ঘুরিয়ে কাঠমান্ডুর দিকে রওনা দেন। তিনি জানাচ্ছে, আরও একটু এগিয়ে গেলেই বাস এমন ভাবে রাস্তায় জ্যামে আটকে যেত, তখন ঘুরিয়ে ফেরার রাস্তা থাকতো না।

    ৭০ বছর হয়ে গেলে ছাড়পত্র পাওয়া যায় না বলে জানালেন অঞ্জনা সান্যাল। কিন্তু মান সরোবর দেখার ইচ্ছে তাঁর রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ছেলে বলেছে হেলিকপ্টারে করে কৈলাসে এরিয়াল ভ্রমণ করা যায়। আমার যাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে।’ প্রাক্তন শিক্ষিকা আরও বলেন, ‘কৈলাস যেতে না পারায় ভেবেছিলাম কী এমন পাপ করলাম যে এত কাছে এসেও দর্শন হলো না। কিন্তু মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে যাওয়ার পরে ভাবলাম কিছুটা পুণ্যের ফল।’

  • Link to this news (এই সময়)