এই সময়, মালদা: এক নির্দল পঞ্চায়েত সদস্যার বাড়ির সামনে গ্রামবাসীদের লম্বা লাইন। বারান্দায় বসে রয়েছেন হীরানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্দল সদস্য সবিতা মাহাতোর স্বামী নিমাই মাহাতো। খাতা কলম নিয়ে একে একে গ্রামবাসীদের নাম ধরে ডাকছেন। যাঁদের ডাকা হচ্ছে, তাঁদের কেউ দিচ্ছেন ৫০ টাকা, কেউ দিচ্ছেন ১০০ টাকা। টাকা দেওয়ার পরে গ্রামবাসীদের হাতে ত্রিপল তুলে দেওয়া হচ্ছে।
সেগুলি সবই সরকারি। সোমবার সকাল থেকেই মানিকচক ব্লকের ভুতনি থানার হীরানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এমন একটি ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি 'এই সময়') ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। ইতিমধ্যে নির্দল ওই পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে মানিকচক ব্লক প্রশাসন ভূতনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মালদার অতিরিক্ত জেলাশাসক অনিন্দ্য সরকার।
হীরানন্দপুর গ্রামে রয়েছে নির্দল প্রার্থী সবিতা মাহাতোর বাড়ি। তাঁর স্বামী নিমাই পেশায় কৃষক। এই হীরানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতে বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। প্রধান রয়েছেন বিজেপির অনিমা মণ্ডল। তিনিও বিষয়টি জানার পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি করেছেন। হীরানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতটি গঙ্গার ভাঙন ও বন্যা কবলিত এলাকা। এবারও ওই এলাকায় ভাঙন চলছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে প্রতি বছরই পঞ্চায়েত থেকে ত্রাণের ত্রিপল দেওয়া হয়ে থাকে। একেকটি পরিবার দুই থেকে তিনটি করে ত্রিপল পায়। কিন্তু এই সরকারি ত্রিপল টাকার বিনিময় বিলি করার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামীর বিরুদ্ধে। হীরানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কেশরপুর এলাকার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বিমল মণ্ডল, মনিকা মণ্ডল, আজাদ আলি বলেন, 'ভাঙনের পর অনেকেই খোলা জায়গায় রয়েছেন। বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে ত্রিপলের প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে আমাদের ওই পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামীর কাছ থেকে নতুন ত্রিপল কিনতে হচ্ছে। ৫০ টাকা পিস হিসাবে এক একটি ত্রিপল বিক্রি করা হচ্ছে। টাকা না দিলে সরকারি ত্রিপল দেওয়া হবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।'
অভিযোগ অস্বীকার করে নিতাই বলেন, 'রীতিমতো পরিকল্পনা করে আমার এই ভিডিয়ো ভাইরাল করা হয়েছে। আমি কিন্তু হাতে টাকা নিইনি। সরকারি নিয়ম মেনে যাঁরা এই ত্রিপল পাওয়ার যোগ্য, তাঁদের নাম লিখে সেগুলি বিলি করা হচ্ছিল। মানিকচকের বিজেপি বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল বলেন, 'বিজেপির আমলে আমরা লুটতরাজ হতে দেবো না। ভিডিয়োটি দেখেছি। এই বিষয়ে তদন্ত হবে। প্রশাসনকে বলা হয়েছে।'
জেলা তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, 'এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করেছি এবং উপযুক্ত আইন অনুযায়ী কঠোরতম শাস্তি চাই।' অতিরিক্ত জেলাশাসক অনিন্দ্য সরকার বলেন, 'ত্রিপল বিক্রির ভাইরাল ছবি প্রশাসনের নজরে এসেছে। নিমাই মাহাতোর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিডিওকে তদন্ত করে রিপোর্ট পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'