• অবশেষে দাঁড়ি পড়ল মেসি-মুহূর্তে, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা
    এই সময় | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সব্যসাচী সরকার

    একদিন না একদিন ঘটনাটা ঘটতই। সব ভালো জিনিসই একদিন না একদিন শেষ হয়। কিন্তু জিনিয়াসের ম্যাজিক কখন শেষ হবে, তা–ও আশ্চর্যজনক ভাবে চমকপ্রদ ভঙ্গিতে বেছে নেন জিনিয়াসই। যেমন বেছে নিলেন লিওনেল মেসি, এই শতাব্দীতে তো বটেই, তর্কযোগ্য ভাবে বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের অন্যতম।

    মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা আগে মায়ামির হয়ে মেজর লিগ সকারে চার–চারটে গোল! দুটো গোল ডেডবল সিচ্যুয়েশনে বক্সের বাইরে থেকে ফ্রিকিকে, একটা চার ডিফেন্ডারকে নাকানিচোানি খাইয়ে সোলো রানে। সদ্য মায়ামিতে যোগ দেওয়া ব্রাজি়লের বিশ্বকাপার কাসেমিরো পর্যন্ত বলে ফেলেন, ‘লিওই বিশ্বের এক ‍নম্বর ফুটবলার। বিশ্বকাপে সবাই দেখেছে, এখনও দেখছে।’

    মেজর লিগ সকারে মায়ামিতে বেবি পিঙ্ক জার্সিতে এর পরেও পৃথিবী দেখবে মেসিকে, কিন্তু আজের্ন্তিনার আকাশি নীল–সাদা জার্সিতে আর নয়। গত ১৯ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনালের দিন তাঁর অঝোরে কান্না ছুঁয়ে গিয়েছিল গোটা ফুটবল বিশ্বকে। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত ছিল তখনই, কিন্তু যতক্ষণ না তিনি স্বয়ং ঘোষণা করছেন, ততক্ষণ কেন স্বপ্ন দেখা থামাবে ফুটবল দুনিয়া? েডভিড বেকহ্যাম যেমন বলেন, ‘লিও মাঠে থাকা মানেই যে কোনও মূহর্তে অবধারিত শিল্পের জন্ম হবে। ও যতদিন খেলবে, যত মিনিট খেলবে, তত সমৃদ্ধ হবে ফুটবল।’

    মায়ামির জার্সিতে তৈরিও হচ্ছিল মেসি–মুহূর্ত, কিন্তু এরই মধ্যে বাবার মৃত্যু তাঁকে মানসিক ভাবে একেবারে দুমড়ে মুচড়ে দেয়। বলে ফেলেন, ‘আর কতদিন খেলব, জানি না!’ তার পরে হঠাৎই এই ঘোষণা। একেবারেই অপ্রত্যাশিত নয়, প্রায় চল্লিশ ছুঁইছুঁই মেসি যে আর্জেন্তিনার হয়ে আর খেলবেন না, জানাই ছিল। কিন্তু তিনি মেসি বলেই বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাঁর কোটি কোটি ভক্তেরা তা মানতে চাননি। মেসি নিজে জানাচ্ছেন, বিদায়ী লম্বা বিবৃতি লিখে ফেলেছিলেন বিশ্বকাপ ফাইনালের দু’দিন পরে, ২১ জুলাই। এর পরে বাবাকে হারানোর ঘটনা তাঁকে সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিতে সাহায্য করেছে মাত্র।

    ইতিহাস ঘাঁটলে ১০ বছর আগেও একবার এসেছিল এমন মুহূর্ত। তখন মাত্র ২৯। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পরে অবসর নিয়ে ফেলেছিলেন মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত মেসি। বলেছিলেন, ‘আমি আর জাতীয় টিমে খেলব না। আমি সব রকম চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হতে না পারায় হৃদয় ভেঙে গিয়েছে।’ এই সিদ্ধান্ত আজের্ন্তিনার মানুষ মানতে পারেননি, মানেনি ফুটবল দুনিয়াও। প্রবল চাপের মুখে সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়েছিল মেসিকে। মাত্র দু’মাস পরে অবসর ভেঙে ফিরে এসে বলেছিলেন, ‘আমি আজের্ন্তিনাকে বড্ড ভালোবাসি। তাই ফিরে এলাম।’

    এর পরে পৃথিবী দেখেছে, কী ভাবে ফিরে আসতে পারেন জিনিয়াস। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা, পরপর তিনটে টুর্নামেন্টে আর্জেন্তিনাকে চ্যাম্পিয়ন করার পিছনে তিনি। এতেই শেষ নয়। গত বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সে টিমকে প্রায় একক কৃতিত্বে ফাইনালে তুলে দেওয়া। ফাইনালে অপ্রতিরোধ্য স্পেনের সামনে থামতে হয় তাঁকে, ট্র্যাজেডির নায়ক হয়েই থাকতে হয় তাঁকে।

    কাপ জেতেননি ঠিকই, কিন্তু শেষ বিশ্বকাপে অবশ্যই ফুটবলকে রাঙিয়ে দিয়ে গিয়েছেন তিনি। উপহার হিসেবে পৃথিবীকে দিয়ে গিয়েছেন অবিশ্বাস্য সব ‘মেসি মোমেন্টস,’ যা চিরকালীন!

  • Link to this news (এই সময়)