এই সময়, মধ্যমগ্রাম: ঋণ দেওয়া ও সেই টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে ‘স্বজনপ্রীতি’, ‘রাজনৈতিক সঙ্কীর্ণতা’ থেকে সমবায় সমিতিগুলিকে দূরে থাকার পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সমবায় সমিতিকে ‘চতুর্থ সরকার’–এর তকমাও দেন তিনি।
সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার মহিলা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির ৩৫ তম প্রতিষ্ঠা দিবসে মধ্যমগ্রামে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যান তিনি। সমবায় আন্দোলন এবং এ সংক্রান্ত কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ওই বার্তা দেন শুভেন্দু। পাশাপাশি, সমবায় সমিতিগুলি পরিচালনার খরচ কমানোর পরামর্শও দেন। তাঁর কথা মতো চললে সমিতিগুলির মুনাফা নিশ্চিত বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। তিনি ছাড়াও এ দিন হাজির ছিলেন রাজ্যের সমবায়মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া, সমবায় দপ্তরের রেজিস্ট্রার বৈভব চৌধুরী, ওই সমিতির সম্পাদিকা সুজাতা চক্রবর্তী–সহ বিশিষ্টরা। মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক, প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ উপস্থিত থাকলেও তিনি মঞ্চের নীচে অতিথিদের আসনে বসে ছিলেন। জানান, তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে তিনি এসেছেন। বিধায়কের কথায়, ‘মহিলা পরিচালিত এই সমবায় সমিতির শ্রীবৃদ্ধি ঘটুক।’
৫২ হাজার টাকা ও ৪২১ জন সদস্য নিয়ে বাম সরকারের প্রয়াত সমবায়মন্ত্রী সরল দেবের হাত ধরে ১৯৯২–এর ৩১ অগস্ট যাত্রা শুরু করেছিল এই সোসাইটি। গত সাড়ে তিন দশকে সদস্য সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৩ হাজার। সমিতির ব্যবসার অঙ্ক ছুঁয়েছে ৪৯ কোটি টাকা, শেয়ার ক্যাপিটাল ৭৮ লক্ষ। আইন মেনে বার্ষিক সভা ডেকে নিয়মিত অডিট হয় বলে জানান সমিতির কর্তৃপক্ষ।
মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘গত ১৫ বছরে এ রাজ্যে সমবায় আন্দোলন অবহেলিত হয়েছে। রাজ্যের সমবায় সমিতিগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের পাশাপশি পঞ্চায়েত–পুরসভা স্থানীয় স্তরের সরকার। কিন্তু আমি মনে করি, এগুলির বাইরে সমবায় সমিতিও চতুর্থ সরকার।’ শুভেন্দু জানান, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসার পরে সমবায়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্র–রাজ্য সামঞ্জস্য বজায়ে জোর এবং তার অগ্রগতিতে নজর দেওয়া হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে সমবায় দপ্তরের রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বৈভবকে।
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, সমবায় আন্দোলন শক্তিশালী হলে রাজ্যের অর্থনৈতিক ভিত প্রসারিত হবে। রাজ্যে সরকার গড়ার পরে, গত সাড়ে তিন মাসে বিনিয়োগের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান — হাওড়ার সাঁকরাইলে দইয়ের কারখানার জন্য ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে আমূল। তাদের চাহিদা মেনে, আইসক্রিম কারখানার জন্য উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে ১৫ একর করে জমিও দেওয়া হয়েছে। ভাষণের শেষ পর্যায়ে সিএম বলেন, ‘ঋণ দেওয়া ও আদায়ের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি এবং রাজনৈতিক সঙ্কীর্ণতা থেকে দূরে থাকুন।’ এ প্রসঙ্গে সোসাইটির সম্পাদিকা সুজাতা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী এক ঠিক বার্তা দিয়েছেন, ওঁর নির্দেশ মেনেই চলব আমরা।’