এই সময়: ২০১৬–র বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে রেকর্ড ভোটে জিতেছিলেন তিনি। নিজের পুরোনো জায়গায় এ বারের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী সেই রেকর্ডও ভেঙে দিক বলে প্রত্যাশা করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয়, ওখানকার বিজেপি প্রার্থী যেন ফলতার উপনির্বাচনে জয়ের রেকর্ডও ছাপিয়ে যেতে পারেন, এ দিন সেই টার্গেটও বেঁধে দিয়েছেন নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক।
২০২৬ এর নির্বাচনে শুভেন্দু ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম––দুটি বিধানসভা কেন্দ্রেই জয়ী হন। পরবর্তীতে তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে ফের নির্বাচন হতে চলেছে। নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা না করলেও সোমবার নন্দীগ্রামে একটি প্রশাসনিক অনুষ্ঠান থেকে শুভেন্দু ভোটের ডঙ্কা বাজিয়ে দিয়েছেন। নিজের পুরোনো কেন্দ্রে সোমবার শুভেন্দু জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘রেকর্ড ভাঙবেন তো? মনে আছে–– আমাকে ৮২ হাজার ভোটে একবার (২০১৬ সালে) জিতিয়েছিলেন। এ বার রেকর্ড ভাঙতে হবে। ফলতাকে হারাবেন? ফলতার উপরে যাবেন? আমাকে দু’হাত তুলে কথা দিন। আমি রাজ্যের উন্নয়ন করব, কিন্তু নন্দীগ্রাম অগ্রাধিকারে ১ নম্বর জায়গায় থাকবে।’
২০১৬–তে বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নন্দীগ্রামে ৬৭ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে বাম–কংগ্রেস জোটের সিপিআই প্রার্থীকে পরাজিত করেছিলেন। ২০২১–এ হাইপ্রোফাইল ভোটযুদ্ধে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেন। ২০২৬ এর ভোটে শুভেন্দু ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে ওই আসন থেকে জয়ী হন। আসন্ন উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামে বিজেপি কাকে প্রার্থী করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ফলতায় বিজেপি যে ভাবে ৭১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছে, শুভেন্দু চান নন্দীগ্রামে সেই রেকর্ড ছাপিয়ে যাক।
শুভেন্দু নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে ফলতার লক্ষাধিক ভোটে জয়ের রেকর্ড ছাপিয়ে যাওয়ার টার্গেট ঘোষণা করায় তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘০০০০০০।’
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী পবিত্র কর ৪৬ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার নিয়ে নির্বাচন কমিশনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরের লড়াই চলছে। কোনপক্ষ শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রামের দেওয়ালে জোড়াফুল প্রতীক আঁকার স্বীকৃতি পাবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তবে ঋতব্রতর কথায়, ‘আমরা কী করব তা প্রকাশ্যে দেখা যাবে। ধৈর্য ধরুন। আশা করছি এর মধ্যে প্রতীকের বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।’ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী শুভেন্দুর টার্গেট প্রসঙ্গে বলেন, ‘অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করা হচ্ছে কি না, সেটা দেখার বিষয়। তৃণমূল যে আর বিরোধী দল নয়, তা তিন মাসে মানুষ বুঝে গিয়েছে। ফলে বিজেপি বিরোধী সমস্ত ভোট বামপন্থীদের পাশে কেন্দ্রীভূত হবে।’
নন্দীগ্রামে এ দিন প্রশাসনিক অনুষ্ঠান থেকে ওই বিধানসভা কেন্দ্রে উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কত মানুষ ‘আয়ুষ্মান’ এবং ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা’ প্রকল্প পাচ্ছেন, সেই তথ্যও দিয়েছেন তিনি। নন্দীগ্রামে দুটি ব্লক মিলিয়ে ৬৭ হাজারের বেশি মহিলা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ পাচ্ছেন। কেন্দামারি, সামসাবাদ, মহম্মদপুর––এসব সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার মানুষও বাড়ির টাকা পাচ্ছেন বলে শুভেন্দু জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘এই সংখ্যালঘু এলাকাগুলি থেকে কেউ আমাকে একটি ভোটও দেননি, কিন্তু আপনারা বাড়ির টাকা নিয়ে যান।...নন্দীগ্রামের দুটি ব্লকে ৩০ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। এঁরা ভোট দেন না.... ঠিক আছে। কিন্তু আমি সকলের মুখ্যমন্ত্রী। আপনি নাগপুর, সুরাট, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, দিল্লিতে (আয়ুষ্মান ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প) চিকিৎসা পাবেন।’
২০২১–এ মমতা বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরে নন্দীগ্রামে রেল প্রকল্পের জমি আটকে রেখেছিলেন, এসবিএসটিসি–র বাস পরিষেবাও বন্ধ করে দেন বলে শুভেন্দুর অভিযোগ। এমনকী, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ে নিহত ৭ জনের ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এ দিন বলেন, ‘শহিদ পরিবারের ৯ জনের চাকরি বাকি ছিল, তাঁদের চাকরি দিয়েছে এই সাড়ে তিন মাসের সরকার। শ’য়ে শ’য়ে মামলা রয়েছে। সব মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে একটি মামলাও থাকবে না।’
নন্দীগ্রামে রেল যোগাযোগ চালু হলে এবং হলদিয়া–নন্দীগ্রামের মধ্যে সেতু নির্মাণ শেষ হলে তিনি জনতাকে নিয়ে প্রথম সফর করবেন বলেও এ দিন ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘হলদিয়ার সঙ্গে নন্দীগ্রামকে জোড়ার জন্য ব্রিজের কাজ এগিয়ে দিয়েছি। সয়েল টেস্ট, এস্টিমেট হয়ে গিয়েছে। ভূমি পুজোতে আসব। ব্রিজের উপরে প্রথম গাড়ি নিয়ে আমি–ই যাব।’