বিজয়কে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী চাইছে টিভিকে, ক্ষুব্ধ কংগ্রেস, সমর্থন প্রত্যাহারের হুমকি দিল হাত শিবির
বর্তমান | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের নাটকীয় পট পরিবর্তনের যেন অন্ত নেই। যে বিজয়ের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর আলিঙ্গনাবদ্ধ ছবি নতুন জোটের বার্তা প্রবলভাবে দিয়েছিল, সেই বিজয় বনাম রাহুলকে নিয়েই তরজা শুরু হয়েছে দুই দলের মধ্যে। দু’পক্ষই দাবি করছে, তাদের নেতাই আগামীদিনের প্রধানমন্ত্রী। আর সেটা দেখে বিজেপি বলেছে, সবই বুঝলাম, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর পদ তো শূন্য নেই! মোদিজি আছেন। মোদিজি থাকবেন। সম্মিলিত বিরোধীরা যখন কমবেশি রাহুল গান্ধীকেই আগামীদিনে ইন্ডিয়া জোটের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে মেনে নিয়েছে, সেই সময় তামিলনাড়ুতে সদ্য তৈরি হওয়া নতুন দলের নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী আখ্যা দেওয়ায় জোরদার বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিজয়ের দলের পক্ষ থেকে হঠাৎ তাদের নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে সরাসরি ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী আখ্যা দেওয়ায় কংগ্রেস ক্ষুব্ধ। এতটাই যে, তামিলনাড়ু সরকারের মন্ত্রী কংগ্রেসের রাজেশ জানিয়ে দেন রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে মেনে না নিলে কংগ্রেস বিজয়ের সরকার থেকে বেরিয়ে যাবে এবং সমর্থন প্রত্যাহারও করবে। এর আগে ডিএমকের সঙ্গে কংগ্রেসের দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ায় বিজেপি আসরে নেমেছিল। ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন, ডিলিমিটেশন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ইত্যাদি বিল পাশ করানোর জন্য প্রয়োজন সংবিধান সংশোধন। দরকার দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন। অতএব ডিএমকেকে পাশে চাইছে বিজেপি। কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব সত্ত্বেও সোমবার হঠাৎ সেই ডিএমকে রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দাবিকেই সমর্থন করেছে। ডিএমকে মুখপাত্র টিকেএস এলানগোভান বলেছেন, কংগ্রেস তো ঠিকই বলেছে। রাহুল গান্ধী বিরোধী জোটের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়ার যোগ্য। হঠাৎ একবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েই বিজয় কখনও প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হতে পারেন নাকি? ডিএমকের এই মন্তব্যে আবার বিজেপি ধাক্কা খেয়েছে। তারা ভাবছে, তাহলে কি ডিএমকে আবার ইন্ডিয়া জোটের দিকেই ঝুঁকছে? সেক্ষেত্রে তো দুই তৃতীয়াংশ সমর্থনের যে মরিয়া চেষ্টা বিজেপির ক্রাইসিস ম্যানেজাররা করছেন, সেটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে! কারণ ডিএমকের ২২ জন ছাড়া কোনওভাবেই সম্ভব নয় বিজেপির ওই লক্ষ্যপূরণ।