অন্নপূর্ণা যোজনা: ভোর থেকেই মন্ত্রীর সেবাকেন্দ্রে মহিলাদের লম্বা লাইন
বর্তমান | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: প্রচণ্ড রোদ। তা সত্ত্বেও ভোর থেকে লম্বা লাইন মহিলাদের। কারও হাতে জলের বোতল ও ছাতা। আবার কারও সঙ্গে শিশু। হাতে চকোলেট ‘ললিপপ’। প্রত্যেকের সঙ্গেই অন্নপূর্ণ যোজনার আবেদনের আইডি নম্বর ও আধার কার্ড। লাইন সামাল দিচ্ছেন পুলিশ অফিসাররা। সোমবার শিলিগুড়ি শহরের হিলকার্ট রোডে দিনভর এমন দৃশ্যর দেখা মিলেছে পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষের সেবা কেন্দ্রের সামনে। কেন? মহিলাদের বক্তব্য, দু’মাস আগে অবেদন করেও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা মেলেনি। তাই মন্ত্রীর আশ্বাস মতো আধার কার্ড ও আবেদনের আইডি নম্বর সহ তাঁর সেবা কেন্দ্রে নাম নথিভুক্ত করলাম। দেখি এবার কী হয়!
মন্ত্রীর সেবা কেন্দ্রে এদিন বিজেপির তিন জন কর্মী মহিলাদের নাম নথিভুক্ত করছিলেন। ওই কর্মীরা জানান, রবিবার থেকে নাম নথিভুক্ত করার কাজ শুরু হয়। তা সোমবার শেষ হয়। দু’দিনে নথিভুক্ত হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি মহিলার নাম।
পর্যটনমন্ত্রী আগেই বলেছিলেন, শিলিগুড়ি শহরে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন ৩২ হাজার মহিলা। এখনও ৩ হাজার ২৫৬ জন আন্ডার প্রসেসে রয়েছেন। এছাড়া আবেদন করেও যোগ্য মহিলাদের অনেকে এখনও যোজনার সুবিধা পাননি। তাঁদের নাম সেবা কেন্দ্রে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তা নারী ও শিশু সুরক্ষা দপ্তরে পাঠাব। যোগ্যরা যোজনার সুবিধা পাবেন বলেই আশা করছি।
এদিন ভোরে ওই সেবা কেন্দ্রের সামনে জড়ো হন মহিলারা। বেলা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেখানে মহিলাদের ভিড় উপচে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল ১০টা নাগাদ সেবা কেন্দ্রের দরজা খুলতেই মহিলাদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। পুলিশ কর্মীরা মহিলাদের লাইন ঠিক করেন। দু’টি লাইন করা হয়। একটি জলপাইগুড়ি জেলার মহিলাদের, আর একটি শিলিগুড়ির মহিলাদের জন্য। দুপুর নাগাদ লাইন ডাঙিপাড়া পর্যন্ত চলে যায়। এর জেরে ফুটপাতে ব্যাপক ভিড় হয়।
গরমে ওড়না দিয়ে কপালে ঘাম মুছতে মুছতে পিংকি রায় নামে গৃহবধূ বলেন, অন্যের বাড়িতে কাজ করি। দু’মাস আগে আবেদন করেও অন্নপূর্ণার টাকা পাইনি। তাই আবার এখানে নাম লেখাতে এসেছি। কবিতা দাস নামে আর এক মহিলা বলেন, আমার স্বামী অন্যের দোকানে কাজ করেন। কোনোরকমে সংসার চললেও ফর্ম রিজেক্ট হয়েছে। তা এখানে জানালাম। দীপালি রায় বলেন, আন্ডার প্রসেস দেখালেও অন্নপূর্ণার টাকা পাইনি। এজন্য নাম নথিভুক্ত করেছি। • নিজস্ব চিত্র।