পাঁচদিন পরও খোঁজ নেই দুর্গাপুরের ৫ পুণ্যার্থীর, নীরব স্থানীয় প্রশাসন
বর্তমান | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ভ্রমণ পাগল মানুষ ছিলেন ডিএসপির উচ্চপদে কর্মরত সুভাষচন্দ্র ঘোষ। স্ত্রী সরকারি হাসপাতালের নার্স। দুই মেয়েও স্বনির্ভর। আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল সুভাষবাবুর পরিকল্পনা ছিল কৈলাশ মানস সরোবর ট্যুর করার। নামী ভ্রমণ সংস্থা জানিয়েছিল ট্যুর হবে ১৯ আগস্ট। কিন্তু তা শুরু হয় ২১ আগস্ট। এই দু’দিনের দেরিই কি ঘোষ পরিবারের অভিভাবককে কেড়ে নিল? আক্ষেপ করছেন পড়শিরা। শুধু সুভাষবাবুই নন, বিপর্যয়ের পাঁচ দিন পরও দুর্গাপুরে নিখোঁজ পাঁচ পর্যটকের কোনো হদিশ নেই। পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগ নিখোঁজ মানুষের আত্মীয়দের একটি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ খোলা হয়েছে। সেখানেও কোনো জবাব মিলছে না। উৎকণ্ঠা বাড়ছে সবার পরিবারের। ওই হোয়াটাস অ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমেই স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিখোঁজদের আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে পাঁচ দিন। গ্রুপটি এখন নীরব হয়ে গিয়েছে। দুর্গাপুরের নিখোঁজ পাঁচ পর্যটকের কী অবস্থা, কোনো সদুত্তর নেই গ্রুপের। নিখোঁজদের পরিবারের অভিযোগ, একটি নামী ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমেই এই পাঁচ পর্যটক মানস সরোবর যাত্রা করছিলেন। একসঙ্গে এতজন পর্যটক নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পরও তাদের কোনো হেলদোল নেই। কোনরকম খোঁজ নেওয়ার চেষ্টাও দেখা যাচ্ছে না।
সুভাষচন্দ্র ঘোষের ভাই দেবব্রত ঘোষ বলেন, ‘পাঁচ দিন হয়ে গেল। নিখোঁজদের কোনো হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনিক গ্রুপেও কোন খবর দেওয়া হচ্ছে না। যে সংস্থার মাধ্যমে দাদা সহ পাঁচজন ঘুরতে গিয়েছিলেন, তারাও দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় এক একটা দিন কী ভাবে পার হচ্ছে, সেটা আমরাই জানি।’ দুর্গাপুরের এসডিও অঙ্কিতা আগরওয়াল বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রশাসনের সর্বোচ্চস্তর থেকে নজরদারি চলছে।’ জানা গিয়েছে, কলকাতার ওই ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে মোট ৩২ জনের একটি গ্রুপ মানস সরোবরের উদ্দেশে কলকাতা থেকে ২১ আগস্ট রওনা দেয়। ২৬ আগস্ট বিপর্যয়ের দিন সকালে তাঁদের শেষ দেখা গিয়েছিল নেপালের সেই ইমিগ্রেশন অফিসের কাছে। হড়পা বানের প্রথম শিকার ছিল ওই অফিসটি। সেটি এখন মিশে গিয়েছে মাটির সঙ্গে। নিখোঁজ পর্যটকদের আত্মীয়দের দাবি, ওই অফিসেই যাবতীয় সামগ্রী জমা করে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে তাঁরা মানস সরোবরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। অনেকেই আশায় রয়েছেন এই ভেবে তাঁরা হয়তো আগেই চিনের দিকে চলে গিয়ে বিপর্যয়ের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছেন।