• নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলনের সব মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস দিলেন শুভেন্দু
    বর্তমান | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করার প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, ‘ওই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে একটাও মামলা থাকবে না।’ সোমবার নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের রেয়াপাড়ায় সরকারি সভায় পুলিশ সুপার অংশুমান সাহাকে মঞ্চে বসিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ওই ঘোষণা করলেও বিষয়টিকে পুরোপুরি ‘নির্বাচনী চমক’ বলে কটাক্ষ করল সিপিএম। দলের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিমাংশু দাস বলেন, ‘এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের আনুমানিক ৩০০টি মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। শুভেন্দুবাবু তখন তৃণমূল পরিচালিত সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী। সবক’টি মামলা আমাদের দলের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল। আমরা এনিয়ে হাইকোর্টে যাওয়ার পর আদালতের নির্দেশে ফের সেইসব কেস রি-ওপেন হয়ে গিয়েছে। তাই খুন, খুনের চেষ্টা সহ গুরুতর মামলা প্রত্যাহার করা অত সহজ নয়।’

    এদিন শুভেন্দুবাবু বলেন, ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে হেরে যাওয়ায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে সাত জনের ডেথ সার্টিফিকেট আটকে রেখেছিলেন। হাইকোর্টে গিয়ে তাঁদের ডেথ সার্টিফিকেট আদায় করেছি। ন’জন শহিদ পরিবারের চাকরি বাকি ছিল। এই সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সেটাও আমি করেছি। নন্দীগ্রামে কৃষিজমি, ঘরবাড়ি, জীবন জীবিকা রক্ষার সংগ্রামে ৪১ জন আন্দোলনকারী আত্মত্যাগ করেছেন। শয়ে শয়ে মামলা হয়েছে। হাজার হাজার আসামী। আপনাদের বিরুদ্ধে হওয়া সব মামলা প্রত্যাহারের পথে হাঁটছি। একটাও মামলা থাকবে না।’ ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ১০টি গুরুতর ফৌজদারি মামলা হাইকোর্টের নির্দেশে ফের হলদিয়া ও কাঁথি কোর্টে ফিরে এসেছে। ওই ১০টি মামলায় প্রায় ৮০ জন জমি ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ছিল। আবারও তাঁদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে। যাঁরা জামিনে ছিলেন তাঁদের মামলার পরবর্তী দিনে উপস্থিত হতে নোটিস যাচ্ছে। ওইসব মামলায় ১৪০ জনের নাম রয়েছে। আন্দোলনকারীদের অনেকেই এখন বিজেপির নেতা। কোর্টে দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে তাঁরা হাঁপিয়ে উঠছেন। এই অবস্থায় মামলা প্রত্যাহার করার জন্য চাপ বাড়ছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়টি ভালোই উপলব্ধি করছেন। তাই উপ-নির্বাচনের মুখে আবারও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার করার কথা শোনা গেল তাঁর গলায়। 

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নন্দীগ্রাম সুস্থ থাকলে আমিও সুস্থ থাকব। আমার রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম নন্দীগ্রাম। ২০০৩ সাল থেকে দু’দশকের বেশি সময় ধরে আমি নন্দীগ্রামবাসীর সঙ্গী। রাজ্যের উন্নয়ন তো করব। তবে, নন্দীগ্রাম আমার অগ্রাধিকারের তালিকায় এক নম্বরে। প্রত্যেক গ্রাম পঞ্চায়েতে ক্যাম্প হচ্ছে। প্লাবন পরিস্থিতিতে ধান, পান, সব্জিতে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে রিপোর্ট করুন। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব আমার। এছাড়া, বর্ষা শেষ হলে এখানে ক্যানাল সংস্কার হবে। কাঠের ব্রিজ পাকা করা হবে। নন্দীগ্রামে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, আইটিআই তৈরির দায়িত্ব আমার। নন্দীগ্রামের কোনও ছাত্রছাত্রী টাকার অভাবে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে না। সেই দায়িত্বও আমার।’
  • Link to this news (বর্তমান)