• আশার আলো দেখছে ঝাড়গ্রাম, মাটির নীচে থেকে বেরিয়ে আসতে পারে মহা মূল্যবান খনিজ
    বর্তমান | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অশোকনগরে তেলসম্পদের সন্ধানের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের খনিজ মানচিত্রে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত ঝাড়গ্রামে। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ম্যাঙ্গানিজের সম্ভাব্য মজুতের সন্ধানে শুরু হতে চলেছে যৌথ অনুসন্ধান সমীক্ষা। সরকারি উদ্যোগে সিমুলপাল, বেগুনডিহা সহ আশপাশের ম্যাঙ্গানিজ সমৃদ্ধ এলাকাগুলিকে সমীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। এই অঞ্চলে ঠিক কতটা ম্যাঙ্গানিজের মজুত রয়েছে এবং তা ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের উপযোগী কি না, তা খতিয়ে দেখবে সরকার। 

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে অনুসন্ধান চালাবে ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা, পশ্চিমবঙ্গ খনিজ উন্নয়ন ও বাণিজ্য নিগম। ভূতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ, মাটির ও শিলার নমুনা পরীক্ষা এবং ম্যাঙ্গানিজের বিস্তৃতি ও সম্ভাব্য মজুত সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে এই নির্ধারিত সময়ে। ঝাড়গ্রামের এই উদ্যোগকে রাজ্যের খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অশোকনগরের তেলসম্পদের সম্ভাবনার পর এবার জঙ্গলমহলের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা ম্যাঙ্গানিজের ভাণ্ডার সামনে এলে রাজ্যের শিল্প ও খনিজ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত মজুতের পরিমাণ বা বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। আগামী দিনের বিস্তারিত ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা ও পরীক্ষার ফলাফলের উপরই নির্ভর করবে ঝাড়গ্রামে ম্যাঙ্গানিজ উত্তোলনের ভবিষ্যৎ। স্থানীয়ভাবে এই উদ্যোগ ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনুসন্ধান সফল হলে জঙ্গলমহলে কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং খনিজভিত্তিক শিল্প সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

    এদিন, বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য তাঁর সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, 'বছরের পর বছর ধরে তৃণমূল সরকারের উদাসীনতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এই প্রাকৃতিক সম্পদ অবরুদ্ধ ছিল। আজ, প্রকৃত উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিজেপি সরকারের অধীনে ঝাড়গ্রামের খনিজ সম্পদ অবশেষে তার প্রাপ্য মর্যাদা পাচ্ছে'।

    উল্লেখ্য,  অশোকনগরের বাইগাছিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অপরিশোধিত খনিজ তেলের বাণিজ্যিক উত্তোলন শুরু হয়েছে গত শুক্রবার। মাটির প্রায় ২,৩৯৬ মিটার গভীরে থাকা তেলস্তর থেকে পাম্পজ্যাকের মাধ্যমে তেল তোলা শুরু করেছে ওএনজিসি। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ কিউবিক মিটার, অর্থাৎ ১৫ থেকে ২০ হাজার লিটার অপরিশোধিত তেল উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। উত্তোলিত অপরিশোধিত তেল বিশেষ ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে পাঠানো হবে হলদিয়া সংশোধনাগারে। 
  • Link to this news (বর্তমান)