“কোটি কোটি টাকা দেওয়া হলেও কাজ হয়নি”, পঞ্চায়েত এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তৃণমূল সরকারকে তোপ দিলীপ ঘোষের
News18 বাংলা | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কলকাতা: শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পুরআইনে জরিমানা চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, শহর পরিষ্কার রাখা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব। মঙ্গলবার এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহর পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে সচেতনতার পাশাপাশি নিয়ম ভাঙলে শাস্তির ব্যবস্থাও প্রয়োজন।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “শহর পরিষ্কার রাখাটা আমাদের দায়িত্ব। এতে আমাদের রাজ্যের ইমেজ তৈরি হয়।” তাঁর মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ আরও অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।
সম্প্রতি চারজন আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে ইন্দোরে গিয়েছিলেন বলেও জানান দিলীপ। তাঁর কথায়, ইন্দোর দেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন শহর। সেখানে কীভাবে বর্জ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ এবং তা থেকে গ্যাস ও সার তৈরি করা হয়, সেই ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতেই তাঁদের সফর।
দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, “সাধারণ মানুষকে সচেতন করার সঙ্গে সঙ্গে শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে।” তাঁর দাবি, নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস তৈরি করতে হলে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সহযোগিতা করতে হবে। সরকার যে পদক্ষেপ করেছে, সাধারণ মানুষকে তার সঙ্গে সহযোগিতা করার আবেদনও জানান তিনি।
পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে পরিচ্ছন্নতা ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, প্রতিটি পঞ্চায়েতকে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য কোটি কোটি টাকা দেওয়া হলেও বহু জায়গায় সেই প্রকল্প সফল হয়নি।
দিলীপের অভিযোগ, নজরদারির অভাবেই পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। তিনি বলেন, “কেউ দেখাশোনা করার নেই, কেউ খোঁজখবর নেয় না।” জেলায় জেলায় ঘুরে তিনি নিজেই এই বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে জানান।
তাঁর দাবি, কোথাও বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র চালু হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গিয়েছে, আবার কোথাও টাকা খরচ হলেও প্ল্যান্ট চালুই হয়নি। এমনকি বর্জ্য সংগ্রহের জন্য কেনা ই-ভেহিকেলও বিভিন্ন জায়গায় পড়ে রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারের অভাবে সেগুলির ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দিলীপ ঘোষ জানান, কয়েকটি সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে কিছু জায়গায় মডেল প্রকল্প চালুর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সমস্ত পঞ্চায়েতে বর্জ্য সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে পৃথকভাবে প্রক্রিয়াকরণের পরিকল্পনা রয়েছে।তাঁর কথায়, “নোংরা আবর্জনা নিয়ে এসে বিভিন্নভাবে ভাগ করা এবং সাত-আটটা ভাগে ফেলা এবং তার প্রসেসিং—সবটাই শুরু হবে। তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।”
পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বরাদ্দ অর্থের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি নেতা। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “দুর্নীতি তো মাথা থেকে পা পর্যন্ত আছে।” কোথায় কত টাকা পড়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে সেই অর্থের সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী দিনে যাতে দুর্নীতি বন্ধ করে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করার কথা জানান দিলীপ ঘোষ।