• তারকেশ্বরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জীর্ণ বিজেপি, সার্বিক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত গোটা ব্লক
    বর্তমান | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: গোষ্ঠীকোন্দলে জীর্ণ বিজেপি। দুই গোষ্ঠীর ঝামেলা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, হামলার ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। দলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি গণেশ চক্রবর্তী আক্রান্ত। গত ২৫ আগস্ট তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়ে হামলা চালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। তাদের আক্রমণে মাথা ফেটেছে নেতার ছেলের, এমনকি, তাকে বাঁচাতে গিয়ে হাত ভেঙেছে স্ত্রীরও। গণেশবাবু দিল্লির নেতাদের কাছে নালিশ জানানোয় ২৭ আগস্ট সেখান থেকে প্রতিনিধিরা এসে খোঁজ নিয়ে গিয়েছেন তাঁর। সামনাসামনি অভিযোগ শোনার পর দিল্লির নেতা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

    গত বিধানসভা নির্বাচনে তারকেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী সন্তু পানের ছায়াসঙ্গী হিসাবে দেখা গিয়েছিল গণেশ চক্রবর্তীকে। তাঁরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভোট করেছিলেন। তারপর দিন যত এগিয়েছে, ততই ফারাক বেড়েছে দুই নেতার। তাঁদের মতপার্থক্য আর দলের অন্দরে সীমাবদ্ধ নেই, চলে এসেছে প্রকাশ্যে। নাম না করে সামাজিক মাধ্যমে নানা বিষয়ে পোস্টও করা হয়েছে। এই বিষয়ে বিজেপি নেতা গণেশ চক্রবর্তী বলেন, দিল্লি থেকে দলের প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। তাঁরা আমার কাছ থেকে সমস্ত ঘটনা শুনে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। 

    গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব পিছু ছাড়ছে না তারকেশ্বরের। বাম আমলেও চরমে উঠেছিল সিপিএমের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। সেই সময়ে ছিল অনিল বসু ও রূপচাঁদ পালের দ্বন্দ্ব। ২০১০ সালে তারকেশ্বর পুরসভা হাতছাড়া হয় বামেদের। ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। তারপর থেকে অন্তত দশ বছর চেয়ারম্যান স্বপন সামন্ত ও ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম কুণ্ডুর গোষ্ঠীকোন্দল অব্যাহত ছিল। এই দুই নেতার দ্বন্দ্ব থাকলেও ব্যক্তিগত মুনাফার প্রশ্নে তাঁরা সহমত ছিলেন। তৃণমূল আমলের শেষ পাঁচ বছর বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায় ও উত্তম কুণ্ডুর গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সকলেরই জানা। সব দলই ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি ছুটিয়েছে। কিন্তু তা বাস্তবায়নের পথে কেউ হাঁটেনি। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে বিজেপি আমলেও। 

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারকেশ্বরের এক বাসিন্দা বলেন, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলে তারকেশ্বর ব্লকে সার্বিক উন্নয়ন বলে কিছু হয়নি। তৃণমূল আমলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্য মঞ্চে মেডিকেল কলেজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বলেছিলেন গ্রিন ইউনিভার্সিটি হবে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন আজও তৈরি হয়নি। গ্রামীণ হাসপাতালটি জরাজীর্ণ। এখানে কর্মসংস্থান বলতে স্বয়ং মহাদেব। এই তীর্থস্থানকে ভিত্তি করেই চলে সাধারণ মানুষের রুজি-রোজগার। তারকেশ্বরবাসী হিসাবে আমরা চাই উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, হাসপাতাল, কর্মসংস্থান, পরিচ্ছন্ন রাস্তা, আলো ও সুষ্ঠু পরিষেবা।
  • Link to this news (বর্তমান)