প্রীতেশ বসু, কলকাতা: রাজ্যের প্রতিটি জমির প্লটের জন্য ‘ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর’ দেওয়া হবে। ৬ কোটি প্লটের প্রত্যেকটির জন্য থাকবে ১২ ডিজিটের নির্দিষ্ট একটি নম্বর। জমির প্লট চিহ্নিতকরণ সংক্রান্ত এই নম্বরকে সরকারিভাবে বলা হচ্ছে ‘ইউনিফায়েড ল্যান্ড পার্সেল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর’। প্রশাসনিক মহল সাধারণভাবে একেই বলছে ‘জমির আধার’। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, শীঘ্রই এই ‘আধার’ প্রদান চালু হবে রাজ্যে। এর ফলে নির্দিষ্ট পরিচয় পাবে প্রতিটি প্লট। একই সঙ্গে জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি, জাল দলিল তৈরি এবং জমির সীমানা সংক্রান্ত বিবাদও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে রাজ্যের ৪২ হাজার মৌজায় কৃষি এবং কৃষি বহির্ভূত মিলিয়ে মোট প্লটের সংখ্যা ৫ কোটি ৯০ লক্ষ থেকে ৬ কোটি ৩ লক্ষ। জমির ‘আধার’ দিতে গেলে প্রতিটি মৌজা ম্যাপের জিও ডিজিটাইজেশন প্রয়োজন। তাই প্রতিটি মৌজা ম্যাপ ধরে সরেজমিনে যাচাই করা হবে। তাতে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমান মৌজা ম্যাপে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে ডিজিটাইজ করা হবে যাবতীয় তথ্য। তারপর তোলা হবে সংশ্লিষ্ট পোর্টালে। এই কাজের জন্য ইতিমধ্যে নয়া প্রযুক্তির একাধিক মেশিন কিনেছে রাজ্য। যা ব্যবহার করে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ ধরে প্রতিটি প্লট চিহ্নিতকরণের পর ১২ নম্বরের ‘ইউনিফায়েড ল্যান্ড পার্সেল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর’ দেওয়া হবে। সমস্ত কাজ শেষ হলে প্রত্যেক প্লটের জন্য জমির মালিকের হাতে ‘ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন কার্ড’ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে রাজ্যের। ঠিক আধার কার্ডের মতোই এই কার্ডের উপরে লেখা থাকবে ১২ ডিজিটের আইডেন্টিফিকেশন নম্বর। ওই নম্বর নির্দিষ্ট পোর্টালে দিলে এক ক্লিকেই বেরিয়ে আসবে সেই জমির ঠিকুজি-কোষ্ঠী। সামনে চলে আসবে জমির চরিত্র, মালিকের নাম, মৌজা, খতিয়ান ও দাগ নম্বর। এই কার্ড বা নম্বর দেওয়ার কাজ শেষ হলে নতুন করে যেসব জমি-বাড়ির রেজিস্ট্রেশন হবে, তার দলিলেও থাকবে প্লটের ‘ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর’।
সূত্রের খবর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তর একসময় মৌজা ম্যাপ তৈরি করেছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে তা ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। কারণ, সেই ম্যাপ একেবারে নির্ভুল নয়। তাই মৌজা ম্যাপের জিও ডিজিটাইজেশনের প্রয়োজন পড়েছে। সেই কাজ শুরু হয়েছে হাওড়া জেলা থেকে। প্রশাসনিক মহল জানাচ্ছে, যে কোনো প্লটের একটি ইউনিক নম্বর থাকলে জাল দলিল বানিয়ে জালিয়াতির ঘটনা এড়ানো যাবে। প্রশাসনিক কাজও অনেক সহজ হবে। সব ক্ষেত্রে মৌজা, খতিয়ান, দাগ নম্বরের মতো গুচ্ছ গুচ্ছ তথ্য দেওয়ার দরকার পড়বে না। ওই ‘আধার’ নম্বর দিলেই বোঝা যাবে, কোন মৌজার অধীনে নির্দিষ্টভাবে কোন জমিটির কথা বলা হচ্ছে। পরিকল্পনা পুরোপুরি রূপায়িত হয়ে গেলে বিনিয়োগকারীরাও জমি সংক্রান্ত জটিলতা সহজে মেটাতে পারবেন বলে আশাবাদী প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।