৫ লক্ষ টাকা ধার, পাঁচ মাসে সুদ সহ ১৭ লক্ষ নিলেন তৃণমূলের প্রধান!
বর্তমান | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাজনৈতিক ক্ষমতার বলে অভিনব কায়দায় ‘তোলাবাজি’র অভিযোগ উঠল শাসনের দাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তাঁর কাছ থেকে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ৫ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন। কথা দিয়েছিলেন, চার মাসের মধ্যে সুদ বাবদ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকাসহ আসল অঙ্ক শোধ করে দেবেন। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে টাকা দিতে না পারায় পঞ্চম মাসে সুদসহ তাঁর কাছে ১৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পাওনা বলে জানিয়ে দেন মনিরুল। অভিযোগ, এরপর ওই টাকা আদায়ের জন্য নিত্য হুমকি দিয়েছেন তিনি ও তাঁর দলবল। রাজনৈতিক ক্ষমতা কুক্ষিগত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ। শাসন থানার উত্তর বহিরা এলাকার ঘটনা। এনিয়ে সম্প্রতি শাসন থানা, দেগঙ্গা এসডিপিও এবং বারাসতের এসপিকে অভিযোগ জানিয়েছেন সালামত আলি।
উত্তর বহিরা গ্রামের বাসিন্দা সালামত আলি সিপিএমের নেতা। ২০২২ সালে তাঁর ছেলে সাবির আলি ব্যাবসায়িক কারণে বর্তমান পঞ্চায়েত প্রধান মনিরুল ইসলামের কাছে ৫ লক্ষ টাকা ধার নেন। সালামতের দাবি, এক মাসের মধ্যেই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন মনিরুল। নির্দিষ্ট সময়ের আগে টাকা ফেরত দিতে গিয়ে বিপাকে পড়ে পরিবার। তাদের অভিযোগ, টাকা না দিলে এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ঘরের মধ্যে জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে সাত দফায় মোট ১৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা মেটাতে হয়েছে তাঁদের। সাবিরের বক্তব্য, টাকা জোগাড় করতে বাড়ি, পুকুর-জমি বিক্রি করতে হয়। মনিরুল ও তাঁর দলবল একাধিকবার হামলা চালিয়েছিল। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল দোকান।
সালামতের আক্ষেপ, ‘তৃণমূল আমলে থানায় অভিযোগ করার সাহস পাইনি। পালাবদল হলেও অভিযোগ জানিয়ে লাভ হচ্ছে না। মনিরুলকে পুলিশ গ্রেপ্তারও করেনি। টাকাও পেলাম না আমি।’ এনিয়ে সিপিএম নেতা কুতুবউদিন আহমেদ বলেন, ‘মনিরুল ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে কেবলমাত্র উত্তর বহিরাতেই অভিযোগের পাহাড় রয়েছে। থানায় অভিযোগ হয়েছে বহু। কিন্তু কাজ হয়নি। এর থেকেই বোঝাই যাচ্ছে কতটা সেটিং আছে।’ এনিয়ে মনিরুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি।