নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর শহরজুড়ে বিভিন্ন হোটেল-গেস্ট হাউসে অভিযান শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা। বেআইনি কিছু দেখলেই ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে ক্লোজার নোটিস। তালা ঝুলিয়ে ‘সিল’ করে দেওয়া হচ্ছে ব্যবসা। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০০টি ক্লোজার নোটিস ইস্যু করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া এসব ব্যবসা কোন শর্তে ফের চালু করা যাবে, তার জন্য এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর) তৈরি করতে চলেছে পুরসভা। ছাড়পত্র দিতে তৈরি হচ্ছে আরও একটি হাইপাওয়ার কমিটি। সেখানে পুরসভার বিল্ডিং ও লাইসেন্স বিভাগ ছাড়াও দমকল, পুলিশ, কেএমডিএ ও সিইএসসির প্রতিনিধিরা থাকবেন। তবে বন্ধ করে দেওয়া ব্যবসাগুলির মধ্যে কতগুলি ফের চালু করা সম্ভব, তা নিয়ে সন্দিহান পুরকর্তারা। চলতি অডিট কবে শেষ হবে, তা নিয়েও চিন্তিত কর্তৃপক্ষ। সোমবার বিকালে লালবাজারে এই সংক্রান্ত একটি বৈঠক হয়। সেখানে পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে, পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা, দমকলের ডিজি অনুজ শর্মাসহ অন্যান্য আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।
পুরসভা সূত্রে খবর, অডিটের জন্য ১৬টি বরোয় যে যৌথ কমিটি তৈরি হয়েছে, তাদের স্ক্যানারে রয়েছে প্রায় ৪৫০০টি হোটেল-গেস্ট হাউস। এখনও পর্যন্ত ৫০০-র কিছু বেশি জায়গায় ভিজিট সম্ভব হয়েছে। বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, স্ক্যানারে থাকা এক-একটি বিল্ডিং খতিয়ে দেখতে অন্তত আধঘণ্টা সময় লাগছে। একদিনে খুব বেশি হলে ৮-১০টি জায়গায় ভিজিট করা সম্ভব । তারপর প্রয়োজনে দিতে হচ্ছে ক্লোজার নোটিস। তাই প্রায় সাড়ে চার হাজার ব্যবসার জায়গায় গিয়ে অডিট কবে শেষ হবে, তা নিয়ে চিন্তা থাকছেই।
অফিসারদের দাবি, ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে দিতে হচ্ছে ক্লোজার নোটিস। এক পুরকর্তা বলেন, ‘এই ব্যবসাগুলি বন্ধের পিছনে মূল কারণ হল অগ্নি সুরক্ষাবিধি না মানা। অথচ অনেক ক্ষেত্রে নূন্যতম বিধিনিষেধ মানতে গেলেও ব্যবসাগুলি আর চালু করা সম্ভব নয়।’ উদাহরণ দিয়ে ওই কর্তা বলেন, ‘ধর্মতলা অঞ্চলের একটি বাড়িতে দেখা গেল, একটি বড়ো ঘরকে ভেঙে সিঙ্গল বেডের দুটো এবং ডবল বেডের একটি রুম বানানো হয়েছে। অপরিসর করিডর। অভ্যন্তরীণ বদল করা হয়েছে নানাভাবে। কিন্তু এসব করার জন্য যে নিয়কানুন মানা প্রয়োজন, তা মেনে ওই বাড়িতে গেস্ট হাউস চালানো কার্যত অসম্ভব। তাছাড়া, প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য একটাই পথ। স্বাভাবিকভাবেই ওখানে আর হোটেল বা গেস্ট হাউসের মতো ব্যবসা চালাতে দেওয়া যাবে না।’ আধিকারিকরা আরও জানাচ্ছেন, যে এসওপি তৈরি হচ্ছে, তাতে যে ধরনের শর্ত থাকবে, তা পুরোপুরি মেনে বন্ধ হওয়া ব্যবসাগুলির খুব বেশি হলে ৫ থেকে ১০ শতাংশ চালু করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে ধর্মতলা, এসপ্ল্যানেড, চাঁদনি চক ও সংলগ্ন অঞ্চলে হোটেল এবং গেস্ট হাউসের যে ব্যবসা চলছে, সেগুলির বেশিরভাগই চলছে ‘রেসিডেন্সিয়াল’ ভবনে। ফলে তা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি। বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে জরিমানা দিয়ে ‘রেগুলারাইজেশন’ করা গেলেও দমকলের ছাড়পত্র পাওয়া মুশকিল। কারণ, দমকলের ছাড়পত্র পেতে যে শর্তগুলি মানতে হবে, সেই পরিকাঠামোর জায়গা পর্যন্ত নেই বেশিরভাগ হোটেল, গেস্ট হাউসে।