এআই ব্যবহার করে শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের অশ্লীল ছবি-ভিডিয়ো, সল্টলেকের স্কুলের ৩ ছাত্র গ্রেপ্তার
বর্তমান | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: এআই পদ্ধতি ব্যবহার করে খোদ শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের অশ্লীল ছবি ও ভিডিয়ো তৈরির অভিযোগ উঠল নবম শ্রেণির তিন ছাত্রের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ দায়ের হওয়ায় রবিবার অভিযুক্ত তিন পড়ুয়াকে পাকড়াও করেছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা। তারা তিনজন সল্টলেকের একটি স্কুলের ছাত্র। এই ঘটনায় এলাকায় শোরগোল পড়েছে। যাঁদের ছবি ও ভিডিয়ো বানানো হয়েছে, তাঁরা চরম মানহানির সম্মুখীন হয়েছেন। কারণ, সেই ছবি ভাইরালও গিয়েছে। ফলে, ওই ছবি ও ভিডিয়ো ইন্টারনেট থেকে রিমুভ করার দাবি উঠেছে। কারণ, এতে অনেকের সম্মান জড়িত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পেশ করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে ওই তিনছাত্রকেই সরকারি হোমে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩০ জুলাই এ নিয়ে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। তারপর ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। শুধু ছবি ও ভিডিয়ো তৈরি করার অভিযোগ নয়, সেগুলি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়েও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তার কয়েকটি নমুনাও পুলিশের কাছে পেশ করা হয়েছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ ডিজিটাল তথ্য ও প্রমাণ পায়। তারপরই ওই তিন পড়ুয়াকে পাকড়াও করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা, সম্মতি ছাড়া ব্যতিগত ছবি ও ভিডিয়ো তৈরি, সম্মানহানি, ষড়যন্ত্র, বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে পিছু নেওয়া তথা স্টকিং, ১২/১৫ পকসো অ্যাক্ট সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, এআই প্রযুক্তি দিয়ে অশ্লীল ছবি ও ভিডিয়ো বানিয়ে ‘সেক্সটরশন’-এর নামে প্রতারণা বেড়েছে। ওই ছবি ও ভিডিয়ো পাঠিয়ে সাইবার প্রতারকরা বিগত কয়েক বছর ধরেই তরুণ থেকে প্রবীণ নাগরিকদের প্রতারণা করে আসছে। লক্ষ লক্ষ টাকা আর্থিক লেনদেনও হচ্ছে। কিন্তু, স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে এই ধরনের ক্রাইম বিরল। তাও আবার নিজের স্কুলের শিক্ষিকা এবং পড়ুয়াদের নিয়ে। কমিশনারেটের এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। খতিয়ে দেখার পর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত তিনজন ছাত্রকেই আটক করে হোমে পাঠানো হয়েছে।