সবাইকে চমকে দিয়ে হঠাৎ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লিওনেল মেসি। সোমবার রাতে তাঁর এই ঘোষণায় স্তম্ভিত গোটা ফুটবলদুনিয়া। এই নিয়ে মুখ খুললেন মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো। মেসির সঙ্গে তাঁর ‘লাভস্টোরি’ ফুটবলপ্রেমীদের অন্যতম চর্চার বিষয়। ছোটবেলা থেকেই লিওর সঙ্গে ছিলেন আন্তোনেলা। সাক্ষী থেকেছেন প্রত্যেকটা ওঠাপড়ার এবং ভালো-খারাপের। বারবার ধাক্কা খেয়েও যে ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন এবং লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন মেসি, ইন্সটাগ্রামে এক আবেগঘন পোস্টে সে কথা জানালেন তাঁর স্ত্রী। কী বললেন?
যে স্বপ্নগুলো একসময় অনেক দূরের মনে হয়েছিল, কী ভাবে সেগুলি পূরণ করেছেন মেসি, সেই যাত্রার কথা জানিয়েছেন আন্তোনেলা। তিনি লিখেছেন, ‘তোমাকে এ ভাবে যাত্রা শেষ করতে দেখে আমি কতটা গর্বিত, তা বলে বোঝাতে পারব না। এতগুলো বছর, এত মুহূর্ত, এত আনন্দ, আবার অনেক কঠিন সময়ও পেরিয়েছ। আমি তোমাকে কষ্ট পেতে দেখেছি, ধাক্কা খেতে দেখেছি, আবার উঠে দাঁড়াতেও দেখেছি। যখন সব পরিস্থিতি বিপক্ষে ছিল, তখনও তোমাকে লড়াই করতে দেখেছি। সব কিছুর পরে স্বপ্নপূরণ এবং জীবনের সবচেয়ে আনন্দের কিছু দিনের সাক্ষীও থাকতে পেরে আমি খুশি।’
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে মেসির উত্থান-পতনের সাক্ষী ছিলেন আন্তোনেলা। তবে সন্তানরা খুব কাছ থেকে বাবার এই লড়াই দেখতে পেয়েছে, তা-ও জানালেন মেসির স্ত্রী। মেসির ব্যর্থতা, প্রত্যাবর্তন এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের পুরো যাত্রার সাক্ষী তাঁর সন্তানরাও।
আন্তোনেলা লেখেন, ‘এমন একটি বিষয় রয়েছে, যা আমাকে সবচেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ করে। আমাদের সন্তানরা খুব কাছ থেকে পুরো বিষয়টি দেখতে দেখতে বড় হয়েছে। ওরা দেখেছে, ওদের বাবা লক্ষ্যপূরণের জন্য কী ভাবে লড়াই করেছে এবং বিশ্বাস হারায়নি। ফলে তোমাকে সেরার শিরোপা পেতে এবং বিশ্বকাপ ট্রফি জিততেও দেখেছে ওরা।’
আন্তোনেলা তাঁর বার্তার শেষ অংশে আরও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তাঁর মতে, সন্তানরা পরে বুঝতে পারবে, মেসির এই যাত্রা কতটা অবিশ্বাস্য ছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে তাঁদের কাছে মেসি শুধুই বাবা। ওই পোস্টেই লেখেন, ‘আজ ওরা শুধু ওদের বাবাকে নিয়ে গর্বিত। আর আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত। তোমার পাশে থেকে এই সবকিছুর সাক্ষী হতে পারা খুবই সৌভাগ্যের বিষয়। আমরা তোমাকে খুবই ভালোবাসি।’
মাত্র ১৮ বছর বয়সে ২০০৫ সালে আর্জেন্তিনার জাতীয় দলে প্রথম ডাক পেয়েছিলেন মেসি। কোচ হোসে পেকেরম্যান তাঁকে প্রথমবার জাতীয় দলে সুযোগ দেন। এর পরে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ২০৭টি ম্যাচ খেলেছেন মেসি। দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। আর্জেন্তিনার জার্সিতে তাঁর গোলসংখ্যা ১২৫। মেসির অবসরের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত ছিল না। বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পরেই এই সম্ভাবনা নিয়ে চর্চা চলছিল। তার পরেও এটা মেনে নিতে পারছেন না ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই।