এই সময়, শ্রীরামপুর: পুলিশি হেনস্থা হেনস্থা ও ও জিটি রোডে 'নো এন্ট্রি' ঘোষণা করার সোমবার দিনভর কর্মবিরতি পালন করলেন শেওড়াফুলি ও শ্রীরামপুর রুটের টোটো চালকরা। তাতে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। টোটো চালকরা জানিয়েছেন, আজ, ১ সেপ্টেম্বর থেকে জিটি রোডে টোটো চালানোর উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। যদি জিটি রোডে তাঁদের টোটো চালাতে না দেওয়া হয়, তা হলে তাঁরা পর্যাপ্ত যাত্রী পাবেন না।
চাঁপদানি ও রিষড়ার টোটো শ্রীরামপুর ও শেওড়াফুলি এলাকায় ঢুকে পড়ার ফলেও তাঁদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তারই প্রতিবাদে এ দিন সকাল থেকে শেওড়াফুলি থেকে শ্রীরামপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিমি এলাকাজুড়ে টোটো চালকরা কেউ রাস্তায় নামেননি। তাতে সমস্যায় পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। অফিস টাইমে মাহেশ ফাঁড়ি, দমকল, বোসপাড়া, বটতলা থেকে শ্রীরামপুর, শেওড়াফুলি স্টেশন চত্বর, বেল্টিং বাজার, ইএসআই হাসপাতালের সামনে মানুষকে দীর্ঘক্ষণ টোটোর জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। স্কুল, কলেজের পড়ুয়ারাও সমস্যায় পড়ে।
শ্রীরামপুর ও শেওড়াফুলি, দুই জায়গাতেই টোটো বন্ধের জেরে ভালোরকম প্রভাব পড়ে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়েন। শেওড়াফুলি হাট জেলার অন্যতম বৃহত্তম পাইকারি ও খুচরো বাজার। এখানে আনাজের পাইকারি ছাড়াও মশলাপাতি, চাল, ডালের মতো জিনিসও পাইকারি দামে পাওয়া যায়। শেওড়াফুলি হাট থেকেই ছোট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নিত্যদিন টোটোয় চাপিয়ে মালপত্র নিয়ে আসেন আশপাশের বাজারে।
টোটো বন্ধ থাকায় খুচরো বাজারে মালপত্র সঠিক সময়ে পৌঁছায়নি। ছিল ঢিলেঢালা। টোটো বন্ধের কারণে বিপাকে পড়েছেন শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালের রোগীর আত্মীয়, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। শ্রীরামপুর ও বারুইপাড়ার সঙ্গে শ্রমজীবী হাসপাতালের যোগাযোগের মূল মাধ্যম হলো টোটো। এই রুটে ট্রেকার চললেও, তা নিতান্তই কম। এক সময় এখানে ৩১ নম্বর রুটের বাস চলত। সেটাও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। এতদিন টোটোই ছিল যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। টোটো না পেয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েন।
অঙ্কোলজি বিভাগের চিকিৎসক সিদ্ধার্থ অধিকারী বলেন, 'আমি শ্রীরামপুর স্টেশন থেকে নিয়মিত টোটোয় যাতায়াত করি। আজ দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও টোটো পাইনি। রোগীর কেমোথেরাপিও ছিল। বাধ্য হয়ে হাসপাতালকে জানাই। হাসপাতাল গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়।' হাসপাতালের নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট ছন্দা দেব বলেন, 'আমার বাড়ি শ্রীরামপুর, দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করে অবশেষে ব্লাড ব্যাঙ্কের গাড়িতে কোনওক্রমে হাসপাতালে আসি।' নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর আত্মীয় বলেন, 'এ দিন আমাদের রোগীর অপারেশন ছিল। খুব মুশকিলে পড়েছিলাম, তবে শেওড়াফুলি থেকে আসা অটোয় হাসপাতালে পৌঁছতে পারি।'
হাসপাতালের সহ-সম্পাদক গৌতম সরকার বলেন, 'টোটো, আচমকা বন্ধ করে দিলে মানুষ বিপাকে পড়বেন। পরিবহণ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো দরকার। দিল্লি রোডের পাশে অনেক ওয়্যার হাউস, কারখানা ও বসতি গড়ে উঠেছে। টোটোই সেখানে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।'