আশিস নন্দী, বারাসত
উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের সন্দীপ মিত্রকে চেনেন না লিওনেল মেসি। চেনার কথাও নয়। সন্দীপের জীবন কিন্তু 'মেসিময়'। বিশ্বকাপের পরে মেসি জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়ার্ল্ড কাপে আর দেখা যাবে না তাঁর জাদু। তার উপরে 'সেরার সেরা' শিরোপা মাথায় ময়দানকে লিও-র বিদায় জানানোর খবর সামনে এসেছে সোমবার। যদিও এ সবের আগেই লিওকে নিয়ে বাড়ি সাজিয়ে ফেলেছেন সন্দীপ।
বারাসত শহরের ন'পাড়ার সন্দীপ 'নেচার ক্যাম্প' নামে গাছ ও রঙিন মাছের একটি ব্যবসা করেন। ছোট থেকেই ফুটবলের প্রতি টান, সবুজ-মেরুনের সমর্থক। কলেজছাত্রী মেয়েকে নিয়ে নিয়মিত কলকাতায় ফুটবল ম্যাচ দেখতে যান। পুরোনো রেডিও, প্রায় ৮০ বছরের 'বৃদ্ধ' ক্যামেরা, গ্রামোফোন, সাবেক কম্পিউটার, মোবাইল সযত্নে সংগ্রহে রেখেছেন সন্দীপ। 'সহজ পাঠে'র অলঙ্করণও রয়েছে তাঁর ঘরে। এ সবের সঙ্গে আছেন মেসিও।
অর্থাভাবে বিদেশে গিয়ে কখনও তাঁর খেলা দেখতে পারেননি। তবে টিভির পর্দায় ইউরোপিয়ান, কোপা আমেরিকা, রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা - কোনও ম্যাচই মিস করেন না। মেসির খেলা হলে তো ঘুমোনোরও প্রশ্ন নেই। ২০১১-র ২ সেপ্টেম্বর কলকাতায় তাঁর খেলা দেখেছেন, সেই ম্যাচের টিকিট আজও সযত্নে রেখেছেন তিনি। মেসিকে দেখতে সল্টলেক স্টেডিয়ামে গেলে ওই অনুষ্ঠানে অব্যবস্থার জেরে শখপুরণ হয়নি।
দোতলা বাড়ির একতলায় ৬ ফুট বাই ৫ ফুটের ঘরে দেওয়াল জুড়ে ফুটিয়ে তুলেছেন মেসির সাফল্যগাথা। আর্জেন্তিনার নীল-সাদা জার্সির রং, মেসির নানা গৌরবময় মুহূর্তের কালেকশন। ২০০৫-এ আর্জেন্তিনার হয়ে তাঁর প্রথম ম্যাচ, ৪৮ সেকেন্ডে লিও-র লাল কার্ড দেখা, ডিসপ্লে বোর্ডে মেসির আটটি 'ব্যালন ডি ওর' পুরস্কার - সব সুন্দর করে সাজানো। ২০০৬-এ বার্সেলোনার হয়ে মেসির হেডে গোলের ছবিও রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের নানা স্বীকৃতি, কেরিয়ারের উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত রয়েছে সন্দীপের 'গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম', 'আর একটু মেসি হলে ক্ষতি কী' প্যাভিলিয়নে।
সংগ্রহে আছে কাতার বিশ্বকাপে লঞ্চ হওয়া 'কাতার কয়েনের' রেপ্লিকাও। এ বারের বিশ্বকাপ শুরুর ৩৯ দিন আগে থেকে (মেসির বয়সও এখন ৩৯) বিভিন্ন সংবাদপত্রে লিও সংক্রান্ত সংবাদ, ছবির কাটিং দিয়ে ডায়েরির ১০০ পাতায় 'মেসি কোলাজ'ও করেছেন। প্রতি সকালে চায়ের কাপ হাতে নিজের তৈরি মেসি প্যাভিলিয়নের সামনে কিছুটা সময় কাটিয়ে ব্যবসার কাজে ঢুকে পড়েন তিনি। রাতে বাড়ি ফিরে ফের মেসি প্যাভিলিয়নের সামনে ঘুরঘুর, তখন সঙ্গী মেয়ে। সন্দীপের কথায়, 'গোড়া থেকেই আমি মেসির ফ্যান, পরে তা আরও গভীর হয়। ভক্ত হিসেবে ওঁর কালেকশন বাড়িতেই সংগ্রহ করে রেখেছি।' ভবিষ্যতে লিও সংক্রান্ত তথ্য ও পরিসংখ্যান নিয়ে গবেষণার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর।