• রাজনীতির ময়দান থেকে অভিনয়ের মঞ্চে পদ্ম-বিধায়ক
    এই সময় | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, বাঁকুড়া: নাটক, যাত্রার প্রতি টান বরাবর। একসময়ে চুটিয়ে মঞ্চে অভিনয় করেছেন। এখন রাজনীতির মঞ্চে দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে সেই সুযোগ আর হয়ে ওঠে না। তবে তাঁর মনটাকে মাঝেমধ্যেই টেনে নিয়ে যায় সাংস্কৃতিক জগতের দিকে। তিনি নীলাদ্রিশেখর দানা। রাজ্যের শাসকদল বিজেপির বাঁকুড়া কেন্দ্রের বিধায়ক। দীর্ঘদিন পর তাঁকে আবারও দেখা যাবে অভিনয়ের মঞ্চে। অভিনয় করবেন 'গঙ্গাপুত্র ভীষ্ম' যাত্রাপালায়। সেখানে এই পদ্ম বিধায়ককে দেখা যাবে মহারাজ শান্তনুর চরিত্রে।

    'বাঁকুড়া আটচালা' নিবেদিত সত্যপ্রকাশ দত্ত রচিত মর্মস্পর্শী আত্মত্যাগের এক কালজয়ী উপাখ্যান 'গঙ্গাপুত্র ভীষ্ম' যাত্রাপালাটি মঞ্চস্থ হবে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর বাঁকুড়া শহরের রবীন্দ্রভবনে। এখন জোরকদমে চলছে তার মহড়া। বিধায়ক নীলাদ্রির কথায়, 'নাটক, থিয়েটারের প্রতি টান আমার বরাবর। তাই বাঁকুড়া আটচালার সদস্যরা বলতেই লোভ সামলাতে পারিনি। আশা রাখছি, আমাদের এই যাত্রাপালা বাঁকুড়ার মানুষের মন জয় করবে।' যাত্রা শিল্পকে ধরে রাখার জন্য 'বাঁকুড়া আটচালা'র প্রশংসা করেছেন বিধায়ক।

    যাত্রা টিমের কর্ণধার সমন্বয় চট্টোপাধ্যায় ওরফে নবাব বলছেন, 'যাত্রা মানে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় গিয়ে অভিনয়। একসময়ে যাত্রা গ্রামেই সীমাবদ্ধ ছিল। আজ শহরের এলিট শ্রেণিও যাত্রামুখী। এটাই আমাদের কাছে বড় প্রাপ্তি।' যোগ করেন, 'আট বছর ধরে অনেক পরিশ্রম করে টিমকে দাঁড় করিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য ভারতের কৃষ্টি, ঐতিহাসিক, পৌরাণিক কাহিনি দিয়ে লোকশিক্ষা দেওয়া। ঠাকুর বলেছেন, লোকশিক্ষা হোক নাটকের মধ্যে দিয়ে।'

    পালার নির্দেশক হরিহর পাল বলছেন, 'কোনও পেশাদার মহিলা নয়, আমাদের ঘরের মেয়েরাই আমাদের সঙ্গে অভিনয় করে। এটা আমাদের অহঙ্কার। যাত্রা শিল্প একেবারে শেষ হয়ে গিয়েছিল। গত তিন-চার বছরে ছবিটা বদলাচ্ছে। গ্রামে গ্রামে নতুন দল তৈরি হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এগিয়ে আসছে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ নিয়ে।'

    এই পৌরাণিক যাত্রাপালায় গঙ্গার চরিত্রে অভিনয় করছেন নিতু পাল। আটচালার এই সদস্যের কথায়, 'আমরা সবাই মিলে পরিশ্রম করছি। বিধায়কও আমাদের সঙ্গে একমঞ্চে অভিনয় করবেন। এটা আমাদের কাছে গর্বের।'

  • Link to this news (এই সময়)