মাংসের গায়ে ছত্রাক ধরে গিয়েছে! মধ্যমগ্রাম, বাদুড়িয়ায় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে উদ্ধার হলো এমনই নষ্ট মাংস! বাদুড়িয়ার নামকরা রেস্তোরাঁয় মঙ্গলবার সকালে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর, পুরসভা ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে কিলো কিলো পচা মাংস উদ্ধার হয় বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ দিন সকালে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার বাদুড়িয়া বাজার এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। ২০১৮ সালে ভাগাড় কাণ্ড নিয়ে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য। পচা, নিম্ন গুণমানের মাংস, মাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল একাধিক হোটেল, রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে। এ দিনের ঘটনা সেই স্মৃতিই ফেরাল বলে দাবি এলাকার বাসিন্দাদের।
২০১৮ সালে ভাগাড় কাণ্ডের তদন্তে নেমে সোনারপুরের পাশাপাশি বনগাঁ পুর এলাকা থেকেও পচা মাংস, মাছ উদ্ধার করেছিল পুরসভা (news in bengali)। শহরের নামকরা দুই রেস্তোরাঁ থেকে সে সব উদ্ধার হয়। বাদুড়িয়ার একটি গোপন আস্তানা থেকে কয়েক টন পচা মাংস উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এর পরে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভাগাড়ের মাংস উদ্ধার করেছিল প্রশাসন। গ্রেপ্তার হয়েছিল একাধিক। বন্ধ হয়েছিল একাধিক নামকরা রেস্তোরাঁও। এ বার বাদুড়িয়ার এক নামকরা রেস্তোরাঁয় হানা দিয়ে উদ্ধার হল কিলো কিলো খাসি, মুরগির মাংস। পলিথিনে মোড়া সে সব মাংস ফ্রিজ়ে রাখা! যে মাংসগুলো বাজেয়াপ্ত করেছে প্রশাসন। পাশাপাশি এই রেস্তোরাঁকে নোটিসও দেওয়া হয়েছে।
খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক অপরাজিতা মজুমদার জানান, অনেকদিন আগের মাংস এগুলো। সেই সব উদ্ধার হয়েছে। এসডিও ছিলেন। পুরসভা কর্তৃপক্ষ, ফুড সেফ্টি অফিসারও ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জয় ঘোষের কথায়, ‘খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর, জেলা প্রশাসন যৌথ ভাবে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁয় হানা দিচ্ছে। এখানকার একটি নাম করা রেস্তোরাঁয় পচা চিকেন, পচা মটন মজুত করে রেখেছে মানুষকে খাওয়ানোর জন্য। সাংঘাতিক ঘটনা! এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হোক।’
অন্যদিকে মধ্যমগ্রামের একটি শপিং মলে একাধিক নামী রেস্তোরাঁয় অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। সেখানে খাদ্যের মান ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠে। সে সব খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। প্রয়োজনীয় লাইসেন্সও দেখা হয়। তাতেই কোথাও লাইসেন্স সংক্রান্ত সমস্যা, আবার কোথাও খাবার সংরক্ষণে গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসে।
অভিযানের সময়ে একটি রেস্তোরাঁর ফ্রিজে রাখা কাঁচা মাংসে ফাঙ্গাস দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করা সেই মাংস সাধারণ মানুষের খাবার হিসেবে পরিবেশন করার আগেই খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের নজরে আসে। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, দু’দিনের মাংস ফ্রিজে রাখা ছিলো কাঁচা অবস্থায়। শেষ পর্যন্ত সেই খাবার ফেলে দিতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ। সেখানে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক প্রসেনজিৎ বটব্যাল জানিয়ে দেন, খাবারের গুণগত মান নিয়ে কোনও রকম আপস করা হবে না। নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড কিংবা বাতিল করা হতে পারে। কারও ব্যবসার ক্ষতি দপ্তর চায় না। তবে সাধারণ মানুষের পাতে যে খাবার পড়বে, সেখানে কোনও আপস চলবে না।
কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন সভাঘরের এক বৈঠক থেকে ফুড ইনস্পেক্টরদে সাফ বার্তা দিয়েছিলেন, খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে কোনও আপস করা চলবে না। খাদ্যের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে রাজ্য জুড়ে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। শুধু জরিমানা করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। গুরুতর অনিয়ম বা জনস্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক কোনও কিছু ধরা পড়লে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মতো কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।