সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যবিমা ও পেনশন নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। মঙ্গলবার নবান্ন সভাঘর থেকে একাধিক ঘোষণা করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আগের সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে রাজ্যের ১৭০০ হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ পেতেন সাংবাদিকরা। বর্তমানে আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পে রাজ্যের ১৯০০ হাসপাতালে (সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে) সাংবাদিকরা চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।’
১. আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পে রাজ্যের ১৯০০ হাসপাতালে চিকিৎসার সুবিধা ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত
২. শুধু রাজ্যেই নয়। গোটা দেশেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে। ভারতবর্ষের ৩৮ হাজার হাসপাতাল ও প্রাইভেট হাসপাতালে মিলবে চিকিৎসার সুযোগ। ভেলোর, মুম্বই টাটা ক্যান্সার হাসপাতাল, চণ্ডীগড় পিজিআই, হায়দরাবাদে ডাক্তার রেড্ডির হাসপাতাল কিংবা বেঙ্গালুরুতে দেবী শেট্টির হাসপাতাল হতে পারে। গোটা ভারতের ৩৮ হাজার হাসপাতালে এই সুযোগ পাবেন।
৩. যাঁরা আয়ুষ্মান ভারতে সপরিবার নথিভুক্ত আছেন, তাঁদের আলাদা করে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার কার্ড নিতে হবে না। সাংবাদিকরা সপরিবার মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার সুবিধা পাবেন। এ দিন বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের হাতে প্রতীকী সেই কার্ডও তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
৪. অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের পূর্বতন তৃণমূল সরকার আড়াই হাজার টাকা করে পেনশন দিত। শুভেন্দু অধিকারী জানান, ১৫৪ জনের কাছাকাছি সাংবাদিক এই সুবিধা পেতেন। সংখ্যাটা নেহাতই কম। বাজেটেই বিজেপি সরকার ঘোষণা করেছিল এই টাকার অঙ্ক ৫ হাজার করা হবে।
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের ৫ হাজার টাকা পেনশন আমরা দেবো। ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে চালু করা হলো। এই প্রকল্পের আওতায় সকল সাংবাদিক অন্তর্ভুক্ত হবেন। এমনকী যাঁরা নিউজ় ডেস্কে কাজ করেন, যাঁদের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নেই, তাঁরাও এই সুবিধা পাবেন। যে হেতু সাংবাদিকরা বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন, তাই তাঁরা পেনশনের মতো সামাজিক সুরক্ষা পান না। এই প্রকল্পের লক্ষ্যই হলো সাংবাদিকদের সেই সব সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা।’
৫. নতুন প্রকল্পে সব ধরনের গণমাধ্যম কর্মীরা আবেদন করতে পারবেন। যোগ্যতা পূরণের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা থাকবে, তারও আশ্বাস দেন তিনি।
৬. সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও এ দিন বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, নতুন অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের ক্ষেত্রে স্ক্রিনিং কমিটির মাধ্যমে আটকানোর কোনও বিষয় থাকবে না। আবেদন করা হলে নির্দিষ্ট মাপকাঠি মেনে কার্ড দেওয়া হবে।
৭. যে সাংবাদিকরা আবেদন করবেন, পুজোর ভাতা হিসেবে তাঁরা ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। এই টাকার ক্ষেত্রে কলকাতা ও জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে কোনও ভাগ থাকবে না।